বাংলাদেশের রাজনীতিতে একমাত্র শেখের মেয়ে হাসিনাই পালিয়েছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, হাসিনা বলেছিল, শেখের মেয়ে পালায় না, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজনই পালিয়েছে, সেটা হচ্ছে শেখের মেয়ে হাসিনা। আজ রোববার (৮ নভেম্বর) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা ডাকবাংলো চত্বরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সখীপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, এখন আবার শুনছি, তিনি ডিসেম্বরে আসবেন, তাঁর নেতা-কর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওইসব নেতা-কর্মীদের বলব, আপনারা দিবাস্বপ্ন দেখবেন না। আপনাদের বিপদে ফেলতে হাসিনা মাঝেমধ্যে এ ধরনের কথা বলে থাকেন, এটা তাঁর চরিত্র। এ জীবনে হাসিনা কোনো দিন ফিরবে না।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা তো চাই হাসিনা ফিরে আসুক। সে-তো এখন ফাঁসির আসামি। হাসিনা ফিরে এসে আদালতে যাক, কারাগারে যাক, ফাঁসির দড়ি ঝুলবে তার গলায়, অসংখ্য গণহত্যা করেছে সে। কিন্তু ফিরবে না, উসকানি দিয়ে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবে, আর আওয়ামী লীগের যাঁরা নেতা-কর্মী তাঁদেরকে নাশকতার কাজে লাগাবে। কিন্তু পরিষ্কার করে বলছি, বাংলাদেশে নাশকতার আর জায়গা নেই।’
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য পতিত ফ্যাসিস্টরা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে তাদের বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছিল। তারা আদৌ গার্মেন্টস শ্রমিক না। হ্যাঁ, কিছু গার্মেন্টস শ্রমিক বিভ্রান্ত হয়েছিল, তারা দুদিনের মাথায় গার্মেন্টসে ফেরত গেছে। আমরা জেনেছি সখীপুরেরও পতিত ফ্যাসিস্টের ১০০ থেকে ২০০ নেতা তারা পাঠিয়েছিল ভাঙচুরের জন্য, তাদের তালিকা হচ্ছে। এটি জনগণের বাংলাদেশ, এখানে নাশকতার কোনো সুযোগ নাই।’
বিরোধী দলের সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য যখন বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন, ঠিক তখন আমাদের বিরোধী দল নানা রকমের বিষোদ্গারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাঁরা এখনই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়েছেন। তাঁরা দুদিন পর পর লংমার্চ করেন। আমরা যখন দেখি দেশে তেলের অভাব, তখন আমাদের বিরোধী দল হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করছে—এটা কি তাঁদের দেশপ্রেম? তাঁরা নানা ধরনের হুমকি-ধমকি ও আলটিমেটাম দিচ্ছে এটা কি তাদের দেশপ্রেম?’
এ সময় বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে পাঁচ বছরের জন্য, পাঁচটা বছর অপেক্ষা করুন। পাঁচ বছর পর আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। বাংলাদেশে আর কখনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না, দিনের ভোট রাতে হবে না। জনগণ ভোট দিবে, অতএব আপনারা পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আর যদি অস্থির হন, অযথা হুমকি-ধমকি দেন, জনগণের উন্নয়ন ব্যাহত হলে জনগণই আপনাদের মোকাবিলা করবে।
আলোচনা সভায় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম, সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ, আকবর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সবুর রেজা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ কবির হাসান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর আবুল হাশেম আল আজাদসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









