Ajker Patrika

রিপোর্টে নরমাল, ফিল্মে ধরা পড়ল হাড় ভাঙা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
রিপোর্টে নরমাল, ফিল্মে ধরা পড়ল হাড় ভাঙা

টাঙ্গাইলে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দেওয়া ভুল এক্স-রে রিপোর্টের কারণে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন সাদিয়া আক্তার বৃষ্টি নামে এক রোগী। তবে অর্থোপেডিক চিকিৎসকের সতর্কতায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, এক্স-রে ফিল্মে স্পষ্ট ফ্র্যাকচার দেখা গেলেও রিপোর্টে ‘নরমাল’ উল্লেখ করা হয়েছিল। এদিকে টাঙ্গাইলে রেডিওলজিস্ট সংকটের কারণে ইমেইলে ছবি পাঠিয়ে বাইরে থেকে রিপোর্ট নেওয়ার সময় এ ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

রোগীর স্বামী নাহিদুর রহমান হিমেল জানান, ৭ জুলাই পা পিছলে পড়ে গিয়ে সাদিয়া আক্তার বৃষ্টির গোড়ালিতে আঘাত লাগে। পরে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে এক্স-রে করে পায়ে প্লাস্টার করা হয়। তিনি বলেন, ১৫ জুলাই পুনরায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলে অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান সুমন নতুন করে এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। পরে এক্স-রে ফিল্ম নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি সেটি রিপোর্টসহ নিয়ে আসতে বলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আগের এক্স-রে ফিল্ম ও রিপোর্টসহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জমা দেওয়া হয়।

নাহিদুর রহমান জানান, পরদিন রাতে রিপোর্ট সংগ্রহ করে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। কারণ, এক্স-রে ফিল্মে ফ্র্যাকচারের চিহ্ন স্পষ্ট থাকলেও রিপোর্টে ‘নরমাল’ লেখা ছিল।

নাহিদুর রহমান আরও বলেন, এক্স-রে রিপোর্ট চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ নথি। ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা হলে রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার টাঙ্গাইলের মার্কেটিং ইনচার্জ ফারুক হোসেন বলেন, টাঙ্গাইলে রেডিওলজিস্টের সংকট রয়েছে। এ কারণে এক্স-রের ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে রেডিওলজিস্টের কাছে পাঠিয়ে রিপোর্ট নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘রিপোর্টে সামান্য ভুল হয়েছিল। পরে এক্স-রে ফিল্ম পর্যবেক্ষণ করে সংশোধিত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি।’

এ ঘটনায় নাহিদুর রহমান হিমেল টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সাইদুর রহমান বলেন, রিপোর্ট ভুল হওয়া চরম অন্যায়। বিশেষ করে ফ্র্যাকচারকে স্বাভাবিক দেখানো হলে রোগীর স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ফোন বা অনলাইনের মাধ্যমে নির্ভরশীলভাবে করানো ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, ভুল রিপোর্টের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত