Ajker Patrika

বাঘ আতঙ্কে তিন গ্রামের মানুষ, বিরল প্রাণী বলছে বন বিভাগ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  
বাঘ আতঙ্কে তিন গ্রামের মানুষ, বিরল প্রাণী বলছে বন বিভাগ
বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির মেঘলা চিতা (ক্লাউডেড লেপার্ড)। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় নিজমাওনা ও বদনীভাঙ্গা এবং পার্শ্ববর্তী কালিয়াকৈর উপজেলার কাচিঘাটা এলাকার বাসিন্দারা বাঘ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি দুটি শাবকসহ বাঘসদৃশ একটি বন্য প্রাণী লোকালয়ে ঘোরাফেরা করছে। তবে বন বিভাগের দাবি—প্রাণীটি বাঘ নয়; এটি বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির মেঘলা চিতা (ক্লাউডেড লেপার্ড)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রাণীটিকে মূলত রাতের বেলায় সড়ক, মাছের খামার ও বসতবাড়ির আশপাশে দেখা যায়। গত দুদিন ধরে প্রাণীটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

নিজমাওনা গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার পথে তিনি প্রথম প্রাণীটিকে রাস্তার পাশে দেখতে পান। পরদিন রাত ৩টার দিকে ঘরের পেছনে শব্দ শুনে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আবারও প্রাণীটিকে দেখতে পান। তখন তিনি মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বদনীভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান জানান, প্রায় তিন মাস আগে পার্শ্ববর্তী একটি মাছের খামারে প্রথম প্রাণীটিকে দেখা যায়। শুরুতে সপ্তাহে দুই-তিন দিন এলেও এখন দুটি শাবক নিয়ে প্রায় প্রতি রাতেই খামারের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। খামারের সিসিটিভি ক্যামেরাতেও এর উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আমজাদ হোসেন ফকির বলেন, প্রাণীটি দুটি শাবক নিয়ে নিজমাওনা ও বদনীভাঙ্গা এলাকার বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রামবাসীদের অনেকেই এটিকে দেখেছেন। শরীরে বাঘের মতো ডোরাকাটা দাগ থাকায় অনেকে এটিকে বাঘ বলে মনে করছেন। এ কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শিলাপাড়া ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান জানান, বনে বাঘসদৃশ একটি প্রাণী ঘোরাফেরা করছে বলে শুনেছেন। তবে তিনি নিজে প্রাণীটিকে দেখেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মোকলেছুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি ক্লাউডেড লেপার্ড বা মেঘলা চিতা। প্রাণীটিকে প্রথমে কালিয়াকৈর উপজেলার কাচিঘাটা বনাঞ্চলে দেখা যায়, পরে এটি শ্রীপুরের বনাঞ্চলেও বিচরণ করছে।

মোকলেছুর রহমান আরও জানান, মেঘলা চিতা বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্য প্রাণী। এটি বিশ্বের বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির একটি প্রাণী। স্থানীয়ভাবে একে লাম চিতা বা গেছো বাঘ নামেও ডাকা হয়। শরীরে মেঘের মতো ছোপযুক্ত দাগ থাকায় এর নাম হয়েছে মেঘলা চিতা। এটি নিশাচর ও অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের প্রাণী। সাধারণত রাতের বেলায় খাদ্যের সন্ধানে বের হয় এবং মাছসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণী শিকার করে। মাছের খামারের আশপাশে এ কারণে এর উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।

মোকলেছুর রহমান আরও বলেন, মেঘলা চিতা সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রাণীটিকে সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত