Ajker Patrika

টাঙ্গাইল: ৮১ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সংকট

  • অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়।
  • তিন মাস ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ।
  • বেকায়দায় পড়েছেন মাঠের স্বাস্থ্যকর্মীরা।
আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইল: ৮১ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সংকট
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে ৮১টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। গেল ১৫ মাসে কেন্দ্রগুলোতে কোনো প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি। তিন মাস ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে একটি করে কিটবক্স বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাতে ১৫টি প্যারাসিটামল সিরাপ, ১০টি এমক্সিসিল সিরাপসহ সামান্য কিছু ওষুধ মিলেছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে গ্রামীণ এই জনপদে।

জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলায় মা ও শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য ৮১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো থেকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসবের আগে-পরের সেবা, শূন্য থেকে ৫ মাস বয়সী শিশুদের সেবা, কিশোর-কিশোরীদের সেবা ও সাধারণ রোগীদের সেবা দেওয়া হয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিমাসে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুটি করে কিটবক্স পাওয়া যেত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিটস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক মাস পর বন্ধ হয় বক্সসহ জন্মনিয়ন্ত্রণসংশ্লিষ্ট উপকরণও। এখন পর্যন্ত সেই অবস্থাই বিরাজ করছে। ফলে ওই কেন্দ্রগুলোর আওতাভুক্ত সেবাগ্রহীতা ব্যক্তিরা সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেলার দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ফারুকুল ইসলাম খান বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে ওষুধপত্র ও জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না। আমরা আগত রোগীদের পরামর্শ দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।’

কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. মোতালেব হোসেন বলেন, ‘আমাদের আওতায় ৩৯ হাজার উপকারভোগী রয়েছে। এদের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট সেবা দেওয়ার উপকরণ সরবরাহ অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকে বন্ধ রয়েছে। ভাগ্য গুণে ১৫ মাসের মধ্যে এপ্রিল মাসে একটি কিটবক্স পাইছি।

কালিহাতীতে ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও শুধু নারান্দিয়া, এলেঙ্গা, বাংরা ও উপজেলা হেল্থ কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা ইউনিটে দেওয়া হয়েছে। আমি যা পেয়েছি তার মধ্যে আছে মাত্র ১৫ বোতল প্যারাসিটামল সিরাপ, ১০ বোতল এমক্সিসিলিন সিরাপ, ১০ বোতল এমক্সিসিলিন (ছোটদের)। এ ছাড়া এন্টাসিড, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, কৃমির ট্যাবলেট, প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজলসহ কিছু টেবলেট পাইছি।’

পরিবারকল্যাণ পরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা যাঁরা মাঠের তাঁরা আছি বেকায়দায়। ওষুধ তো দূরের কথা, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীও আমরা আমাদের উপকারভোগীদের দিতে পারি না। ফলে অনেকে কটু কথা ও বিরূপ মন্তব্য করে থাকেন। আমাদের কর্মীদের আটকিয়ে রাখার মতো ঘটনাও ঘটে। গ্রামীণ জনপদের মানুষেরা বলে ওঠে, “সরকার বরাদ্দ দেয় ঠিকই, ওরাই খাইয়া হালায়।’”

পরিবারকল্যাণ পরিদর্শক হালিমা পারভিন বলেন, ‘আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন করে থাকি। বুঝাইলে অনেকে বোঝে আবার অনেকে বুঝতে চায় না। বিব্রত হতে হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা রেহেনা বেগম বলেন, ‘ওষুধ থাকে না, তাই ওষুধের নিগা ওই কেন্দ্রে যাই না। আমরা টিকা দিবার যাই। অনেক সময় টিকা দিয়া দেয়। আবার টিকা না থাকলে বাইরে থিকা টিকা দিই।’

এ বিষয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি টাঙ্গাইলের সাধারণ সম্পাদক তরুণ ইউসুফ বলেন, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তন হলেও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। কিন্তু ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই রহস্যাবৃত। তদন্ত করে রহস্য উন্মোচন এবং দুর্নীতি হয়ে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা দপ্তর টাঙ্গাইলের উপপরিচালক আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণের সংকট রয়েছে। প্রাপ্তি সাপেক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে সেবাগ্রহীতাদের মনজয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ধর্ষক মসজিদের ইমাম নয়, বড় ভাই—ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত

গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ আজ হচ্ছে না

তিস্তা প্রকল্পসহ ১০ দফার যৌথ বিবৃতিতে যা বলল বাংলাদেশ-চীন

‘পুশইন’ ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান ভারতের

অবৈধ মানব পাচার: প্রথম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত