Ajker Patrika

বিএমডিএর গভীর নলকূপ: পানি দেননি অপারেটর ৪০ বিঘা জমি চৌচির

  • জমির বদলে মাছের পুকুরে পানি সরবরাহ।
  • অপারেটরকে বরখাস্ত করেছে বিএমডিএ।
  • তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ চান কৃষক।
 দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
বিএমডিএর গভীর নলকূপ: পানি দেননি অপারেটর ৪০ বিঘা জমি চৌচির
চৌচির মাঠে দাঁড়িয়ে আছেন কৃষকেরা। গতকাল রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত তেকাটিয়া গ্রামে। আজকের পত্রিকা

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত বগুড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দাম নিয়ে বিরোধের জেরে বিএমডিএর নলকূপের অপারেটর কৃষকদের জমিতে পানি দেননি। পানির অভাবে অন্তত ৪০ বিঘা জমিতে এবার ধান চাষ করা যায়নি। কৃষকদের আরও অভিযোগ, তাঁদের পানি না দিয়ে একটি মাছের পুকুরে নলকূপের পানি সরবরাহ করেছেন অপারেটর। কৃষকের দাবি, সব অভিযোগের তদন্ত করে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা অপারেটরের বিরুদ্ধে বিএমডিএতে অভিযোগ করেন। বিএমডিএ অপারেটরকে চিঠি দিয়ে ডেকেছে। কিন্তু তিনি যাননি। কেন যাননি, সেটির জবাব দিতে বলেছে। কিন্তু সেই জবাবও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি দেননি। এ অবস্থায় ৪ মে ওই অপারেটরকে বরখাস্ত করেছে বিএমডিএ।

অভিযুক্ত বিএমডিএর এই অপারেটরের নাম মো. গোলাম রাব্বানী। তাঁর বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত তেকাটিয়া গ্রামে। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গত মৌসুমে অপারেটর চার বিঘা জমির উঠতি শর্ষে পানি দিয়ে নষ্ট করে দেন। এ নিয়ে তখন দুই পক্ষের মধ্যে মারামারিও হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ নিয়ে সালিসে বসেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, গভীর নলকূপের পানি ইচ্ছেমতো বিক্রি করতে পারবেন না অপারেটর। চাষিরা সমিতি করে নলকূপের পানি ব্যবহার করবেন। তাহলে সেচের খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। কিন্তু অপারেটর ওই সিদ্ধান্ত মানেননি। পানি না পাওয়ায় কৃষকেরা ফসল ফলাতে পারেননি।

গতকাল দেখা যায়, নলকূপের আওতাধীন বেশির ভাগ জমিই খালি পড়ে আছে। পাশে কিছুসংখ্যক চাষি অপারেটরের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বোরো চাষ করেছেন। বেশির ভাগ চাষির পতিত জমিতে গরু-ছাগল চড়ে বেড়াচ্ছে। এই ধানের জমির মধ্যেই একটি নতুন পুকুর খনন করা হয়েছে। নলকূপের নালার সঙ্গে পাইপ দিয়ে পুকুরের সঙ্গে একটা সংযোগ তৈরি করা হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, তাঁদের ধানের জমিতে পানি না দিয়ে রাতে অপারেটর এই পুকুরে পানি দেন।

কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, পানির জন্য অপারেটর তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নিচ্ছেন। সমিতির মাধ্যমে পানি নিলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ টাকা খরচ পড়বে। কৃষকেরা সমিতি করার পক্ষে ছিলেন। এ জন্য পানি দেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারী ইয়াসিন আলী বলেন, অপারেটর পুকুরে পানি দিলেও জমিতে পানি দেননি। ফলে এখানকার কৃষকেরা আবাদ করতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে অপারেটর গোলাম রব্বানী বলেন, তাঁকে বিএমডিএ সাময়িক বরখাস্ত করছে। বরখাস্তের চিঠিও হাতে পেয়েছেন। পানি না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কৃষকেরা ধানই রোপণ করেননি। আমি পানি দিব কীভাবে? এ কারণে জমি পতিত পড়ে আছে।’ জমি পতিত রেখে পুকুরে পানি দেওয়ার অভিযোগে তিনি বলেন, পুকুরে মাছ মরে যাচ্ছিল। তা ছাড়া মাছও কৃষির মধ্যে পড়ে।

জানতে চাইলে বিএমডিএর দুর্গাপুর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ওই অপারেটরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এখন স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে নতুন অপারেটর নিয়োগ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ধর্ষক মসজিদের ইমাম নয়, বড় ভাই—ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত

গভর্নর রাজি নন, বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের শপথ আজ হচ্ছে না

তিস্তা প্রকল্পসহ ১০ দফার যৌথ বিবৃতিতে যা বলল বাংলাদেশ-চীন

‘পুশইন’ ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান ভারতের

অবৈধ মানব পাচার: প্রথম বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত