Ajker Patrika

‘পাথর কোয়ারি চালু হলে সিলেটের পরিবেশ-প্রতিবেশ আবারও হুমকির মুখে পড়বে’

সিলেট প্রতিনিধি
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪৬
‘পাথর কোয়ারি চালু হলে সিলেটের পরিবেশ-প্রতিবেশ আবারও হুমকির মুখে পড়বে’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) উদ্যোগে মতবিনিময় সভা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিলেট জেলার ৮টি পাথর কোয়ারির মধ্যে ৭টি পাথর কোয়ারি এলাকাই হলো সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বলা হচ্ছিল পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে। সম্প্রতি পাথর কোয়ারিবেষ্টিত সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের এমপি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ঘোষণা দেন শিগগিরই সনাতন পদ্ধতিতে সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া হবে। এই পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়া হলে কোয়ারিবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিবেশ-প্রতিবেশ আবারও হুমকির মুখে পড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশসচেতন মানুষজন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) উদ্যোগে ‘সিলেট বিভাগে বেলার দায়ের করা মামলাভুক্ত ইস্যুসমূহের বর্তমান অবস্থা’ নিয়ে মতবিনিময় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশসচেতন মানুষজন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতারের তত্ত্বাবধানে সভায় সিলেট বিভাগের পরিবেশগত বিভিন্ন ইস্যুতে বেলার করা ৩২টি রিট নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। এই পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিলেটের পরিবেশ রক্ষায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আদালতের নির্দেশনা মানছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া সভায় সিলেট বিভাগের পরিবেশগত সংকটের নতুন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। বেলার বিভাগীয় কর্মকর্তা নিরুপম দের সঞ্চালনায় সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস, কলেজশিক্ষক বিচিত্রা রায়, অ্যাডভোকেট সত্যজিৎ কুমার দাস, সাংবাদিক মো. আইয়ুব খানসহ সিলেট বিভাগের চার জেলার বেলার নেটওয়ার্ক সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষ সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য দেন।

অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা বলেন, আদালতের নির্দেশে কাগজে-কলমে পাথর কোয়ারি বন্ধ হলেও সিলেটে পাথর উত্তোলন থেমে নেই। আদালতের নির্দেশে টিলা কাটা বন্ধ করা হলেও সিলেটে টিলা কাটা কখনো বন্ধই হয়নি। সিলেটের পরিবেশগত সংকট নিয়ে বেলা এখন পর্যন্ত ৩২টি রিট করেছে। এই রিটগুলোর প্রেক্ষিতে আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা ইতিমধ্যে এসেছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। এখন শুনছি, সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের এমপি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাথর তুলতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও এই ধরনের ঘোষণা সরাসরি আদালত অবমাননা। সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়া হলে কোয়ারিবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিবেশ-প্রতিবেশ আবারও হুমকির মুখে পড়বে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত