
পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে পরিকল্পনাহীন অব্যবস্থাপনাই হাওরে জলাবদ্ধতা ও বন্যা ডেকে আনছে। হাওরাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ভরাটসহ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ভুগছেন বোরোচাষিরা। এরই মধ্যে জলাবদ্ধতা থেকে ফলন বাঁচাতে ৩০টির বেশি বাঁধ কেটে দিয়েছেন হাওরের কৃষক।
বিগত প্রায় এক দশকে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতের নামে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও কৃষকেরা সুফল পাননি। দায়সারা বাঁধ দিয়ে হাওরে একধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি হাওর বিশ্লেষকদের।
২০১৭ সালে হাওর বিপর্যয়ের পর কৃষক ও হাওর আন্দোলনের লোকজনের দাবির মুখে বাঁধের কাজসংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন আনে সরকার। ২০১৮ সাল থেকে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রশাসন, পাউবো, কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজ শুরু করে বাঁধে। এরপর থেকে যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে গোটা হাওরাঞ্চলকে বিপদে ফেলা হয়েছে। বাঁধের কাজে পরিকল্পনার অভাব, ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, অদক্ষতা ও জবাবদিহি না থাকার অভিযোগ রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জের হাওরে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক জায়গায় বারবার বাঁধ দেওয়ার ফলে স্থায়ী রাস্তায় রূপ নেওয়ার অবস্থা হয়েছে। বাঁধ দিয়ে হাওরকেন্দ্রিক অনেক নদীর গতিপথও থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাগনা হাওরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা আলীপুর গ্রামসংলগ্ন পিয়াইন নদের মুখে আট বছর ধরে বাঁধ (বৌগলাখালি বাঁধ) দিয়ে আসছে পাউবো। শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ভেতরে প্রবেশ করা মহাশিং নদের মাঝ বরাবর বাঁধ (উথারিয়া বাঁধ) দিয়ে ওই হাওরের অনেক জমি জলাবদ্ধতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, প্রতিবছর হাওরের কান্দা ও জাঙ্গাল কেটে বাঁধে মাটি ফেলা হয়েছে। এই মাটিতে ভরাট হয়েছে নদী এবং হাওরের ডোবা, নালা ও বিল। দিন দিন ভরাটের মাত্রা বাড়ায় জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে।
জামালগঞ্জের মহালিয়া হাওরের কৃষক দেবাশীষ তালুকদার বলেন, যেভাবে বাঁধ দেওয়া হয়, তাতে পানি নামার কোনো পথ থাকে না। সবকিছু জেনেবুঝেই কাজ করা লাগে। কিন্তু বাঁধ দিতে গিয়ে কৃষক ও হাওর গবেষক কারও কোনো মতামত নেওয়া হয় না। যে কারণে এবার হাওরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং নন-হাওরে ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষক। জেলায় কার্ডধারী ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ জন কৃষকের মাঝে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮০৭ জনই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। এবার জলাবদ্ধতায় প্রায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
হাওর গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, সর্বাধিক হাওর, বিল ও নদীসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জলাধার রয়েছে সুনামগঞ্জে। হাওর সুরক্ষায় জলাভূমি খননের দাবি উঠেছিল আশির দশকে ভাসান পানির আন্দোলনের সময়। কিন্তু খনন না করে ফসল রক্ষা বাঁধের নামে হাওরে ভূমির শ্রেণিবিন্যাস বদলে ফেলা হচ্ছে। বিপর্যয়ের যে কয়টি কারণ, সেগুলোর মধ্যে বেড়িবাঁধ অন্যতম।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, বাঁধের মাটি স্বাভাবিকভাবে নদী কিংবা হাওরে গিয়ে পড়ে। এতে নদীর নাব্যতা কমছে, হাওর অভ্যন্তরের খাল-বিলও ভরাট হচ্ছে। নদী ও হাওরের খাল-বিল খননের বিষয়টি সব জায়গাতেই আলোচনা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাওর ও নদী খননের পরিকল্পনা আছে। বাঁধের কাজ যে নিয়মে হচ্ছে, সে রকমই হবে। হাওরের বিশেষ বিশেষ জায়গা দেখে জলকপাট নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ইতিমধ্যে খননের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে হাওরাঞ্চলের নদী-খাল-বিলও খননের আওতায় আসবে। হাওরে যেভাবে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে, সেই নিয়মের পরিবর্তন দরকার।
হবিগঞ্জে ফসলের ক্ষতির পেছনে হাওর এলাকার নদ-নদী, খাল-বিল বছরের পর বছর ড্রেজিং না করা এবং অপরিকল্পিতভাবে হাওরে রাস্তাঘাট নির্মাণ করাকে দুষছেন কৃষকেরা। তাঁরা বলছেন, যদি নদ-নদী, খাল-বিল ড্রেজিং করা হতো, তাহলে হয়তো এমন ক্ষয়ক্ষতি হতো না। ড্রেজিং না করায় নদী ও খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে। যে কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
কৃষকেরা বলছেন, এবার জেলায় বোরো ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তা নদ-নদীর বাঁধে ভাঙনের ফলে হয়নি। কোনো বেড়িবাধে বড় ধরনের ভাঙনও দেখা দেয়নি।
পাউবোর দেওয়া তথ্যমতে, জেলার আজমিরীগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ফসলহানির ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া খোয়াই নদের ১১০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে অধিকাংশই ঝুকিপূর্ণ। তবে এসব অংশে ভাঙন দেখা না দিলেও খোয়াই নদের সুজাতপুর অংশে ভাঙন দেখা দেয় এবং বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।
বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ভাটি এলাকার হাওরের পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। যে নদীগুলো রয়েছে, তা-ও দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খাল বিলগুলোরও একই অবস্থা। আমাদের সুজানগরের দত্তপুর এলাকায় খোয়াই নদের পাড়ের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এই অবস্থায় কৃষকদের স্বার্থে ভবিষ্যতে খাল-বিল ও নদীগুলো দ্রুত ড্রেজিং করার জরুরি।’
নয়ন মিয়া নামের এক কৃষক বলেন, ‘কর্মকর্তারা শুধু অফিসে বসে হিসাব করেন। আমরা গরিব মাঠে মরি। আমাদের মরার পেছনে তাঁদের কোনো দায় নেই?’
আরেক কৃষক রফিক আলী বলেন, হাওরের মাঝখান দিয়ে রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায় ফসল।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুর রহমান বলেন, হাওরে বৃষ্টির পানিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। নদীতে যত বেড়িবাঁধ রয়েছে, সেই বাঁধগুলোতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ বছর হবিগঞ্জে কোনো নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙনের কারণে বোরো ফসলের ক্ষতি হয়নি। তবে যেসব বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলো আমরা মজবুত করার কাজ করছি।
হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক দীপক কুমার পাল বলেন, এই বোরো মৌসুমে আগাম বৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর কারণ হিসেবে হবিগঞ্জের হাওর এলাকায় যেসব খাল রয়েছে, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনন করা হননি। তাই অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আশা করি, আগামী বোরো মৌসুমের আগেই পাউবোর উদ্যোগে হবিগঞ্জের নদী ও হাওরের খাল খনন করলে কৃষকদের উপকার হবে।’
দীপক কুমার পাল আরও বলেন, সব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ২১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

‘কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি-কর্ণে/ আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে...’—কাজী নজরুল ইসলামের এই মনোমুগ্ধকর গান মনে করিয়ে দেয় কৃষ্ণচূড়ার তাৎপর্য; একই সঙ্গে মানিকগঞ্জে গ্রীষ্মের চিত্র। তপ্ত বৈশাখের দুপুরে যখন সূর্য আগুন ঢেলে দেয় মাটির বুকে, তখন ঠিক এমনই এক লাল বিস্ফোরণ ছড়িয়ে পড়ে পথের ধারে...
১ ঘণ্টা আগে
ইলুর দাবি, মামলা-মোকদ্দমায় দৈন্যদশায় পড়েছিলেন কমর বেগমের মেয়ে রেজিনা জামাল। তাই ১৯৯১ সালের দিকে তিনি এই পালঙ্ক বিক্রি করেন। তিন মাসের বেতনের টাকা জমিয়ে কমর বেগমের পালঙ্কটি কিনেছিলেন তাঁর স্কুলশিক্ষক বাবা আবদুর রহমান খান।
১ ঘণ্টা আগে
দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক স্বপ্ন নিয়ে নদীতে নেমেছিলেন লক্ষ্মীপুরের জেলেরা। তবে দেখা মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। অথচ এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পড়ার কথা। কিন্তু ঘাটে অলস সময় কাটছে জেলেদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘনা নদীতে নাব্যতা-সংকট ও ডুবোচরের কারণে সাগর থেকে ইলিশ আসতে বাধার মুখে পড়ছে।
১ ঘণ্টা আগে
রাঙামাটি জেলা পরিষদের প্রকৌশল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. এরশাদুল হক মণ্ডল। একসময়ের বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর জেলা শাখার সভাপতি এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ। জানা গেছে, জুলাই ’২৪ এর পর ভোল পাল্টান এরশাদুল। হয়ে ওঠেন বৈষম্যবিরোধী।
১ ঘণ্টা আগে