Ajker Patrika

সিলেটে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা দেখছিলেন শিক্ষক, ৪০০ উত্তরপত্র জব্দ

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটে চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসির খাতা দেখছিলেন শিক্ষক, ৪০০ উত্তরপত্র জব্দ
অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজশিক্ষকের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে অভিযানে নেমে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০০ উত্তরপত্র জব্দ করেছে সিলেটের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহান সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। তিনি শাবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, শনিবার রাত ১১টার দিকে শাবিপ্রবির প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকানে অভিযান চালান শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্য স্থানে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ওই শিক্ষক। এ সময় হাতেনাতে প্রায় এক বস্তা খাতা জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো গুণে দেখা যায়, বাংলা দ্বিতীয়পত্রের ৪০০টি উত্তরপত্র। পরবর্তীকালে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিলে সেখানে পুলিশ পৌঁছে খাতাগুলো জব্দ করে। এ ঘটনায় বোর্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি শনিবার রাতে হঠাৎ সংবাদ পাই যে ওই শিক্ষক নাকি এইচএসসির খাতা দেখছেন একটি চায়ের টংয়ে বসে। পরে আমি এবং বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্টসহ আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পেপার তিনি তাঁর আরও বন্ধুদের নিয়ে দেখছিলেন। পরে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিয়ে আমরা খাতাগুলো জব্দ করি। সেখানে ওই শিক্ষকের সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন। এর মধ্যে আমরা আসার পূর্বেই একজন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর ওই শিক্ষককে তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে ইতিমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।’

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও বলেন, ওই শিক্ষকের খাতা বাসায় বসে ভালোভাবে দেখা উচিত ছিল। এটা একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। তাঁকে ইতিমধ্যে শোকজ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবাল হোসেন সোহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত