ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট

‘বন্যার পানিতে বই-খাতা সব নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরে বুকপানি উঠছিল। আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম ১০ দিন। যেকোনো দিন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করবে। পড়ব কী? পরীক্ষাই দিব কীভাবে বুঝতেছি না।’
এসব কথা বলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হাজী কনু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সানজিদা সনিয়া লাকি।
এই অবস্থা শুধু লাকির নয়, সিলেট-সুনামগঞ্জের অধিকাংশ এসএসসি পরীক্ষার্থীর। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বন্যাকবলিত প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর বন্যায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাছে। তাঁরা এখনো তথ্য সংগ্রহ করছেন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের অধীন থাকা চার জেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে বন্যাকবলিত জেলা সিলেটে ৪৩ হাজার ৮৪৪ জন ও সুনামগঞ্জে ২৩ হাজার ৭৫২ জন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বই-খাতা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারি গুদামেও পর্যাপ্ত বই নেই। সাধারণত প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণের পর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ
মজুত থাকে।
সিলেট নগরীর চালিবন্দরের বাসিন্দা হৃদয় রবি দাস দ্বীপ। সে নগরীর বন্দরবাজার রাজা জিসি হাই স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তার বইও ভেসে গেছে বানের জলে। দ্বীপ বলে, ‘পরিবারের সবার সঙ্গে ছড়ারপাড় রামকৃষ্ণ বালিকা বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম।
বাসায় এসে দেখি ঘরে বই-খাতা, জ্যামিতি বক্স কিছুই নেই। সব পানিতে ভেসে গেছে।’
কোম্পানীগঞ্জ থানাবাজার এলাকার সুমাইয়া বেগম। কোম্পানীগঞ্জ থানা সদর মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে সে। গত ১৫ জুন তাদের ঘরে বন্যার পানি ঢোকে। এতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে তার সব বই-খাতা।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ সিলেটের আঞ্চলিক উপপরিচালক জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য আমরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া যে যে এলাকা উদ্বৃত্ত বই রয়েছে, তা সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদানের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তবে সুনামগঞ্জ তো পুরাটাই ক্ষতিগ্রস্ত। সিলেটেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে উদ্বৃত্ত বইয়ে হবে না। আবার নতুন করে এখন বই ছাপানোও কঠিন। তাই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আমরা অনুরোধ করব, সম্ভব হলে তারা যেন সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ম্যানেজ করে নেওয়ার চেষ্টা করে।’
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, ‘মজুত থাকা বইয়েরও ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ক্ষতি পোষাতে সিলেট অথবা ঢাকা থেকে বই পাঠাতে হবে।’
সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, আমাদের ছাতক, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলার শতভাগ মজুত থাকা বই নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি উপজেলাগুলোয় ২০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে।’
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ড. নাছিমা বেগম বলেন, বন্যায় পুরো বিভাগের ২ হাজার ৮৫৫ টির মধ্যে সুনামগঞ্জের সবগুলো বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানোর জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা অন্য জেলা থেকে বই এনে তাদের দিব।’
সিলেট-সুনামগঞ্জে গত ১৫ জুন থেকে বন্যা শুরু হয়। ৪০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় দেড় লাখ ঘরবাড়ি। কমতে শুরু করলেও, দুই জেলার বেশির ভাগ এলাকা এখনো প্লাবিত।

‘বন্যার পানিতে বই-খাতা সব নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরে বুকপানি উঠছিল। আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম ১০ দিন। যেকোনো দিন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করবে। পড়ব কী? পরীক্ষাই দিব কীভাবে বুঝতেছি না।’
এসব কথা বলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের হাজী কনু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সানজিদা সনিয়া লাকি।
এই অবস্থা শুধু লাকির নয়, সিলেট-সুনামগঞ্জের অধিকাংশ এসএসসি পরীক্ষার্থীর। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বন্যাকবলিত প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর বন্যায় প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাছে। তাঁরা এখনো তথ্য সংগ্রহ করছেন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের অধীন থাকা চার জেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী রয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে বন্যাকবলিত জেলা সিলেটে ৪৩ হাজার ৮৪৪ জন ও সুনামগঞ্জে ২৩ হাজার ৭৫২ জন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বই-খাতা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। সরকারি গুদামেও পর্যাপ্ত বই নেই। সাধারণত প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণের পর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ
মজুত থাকে।
সিলেট নগরীর চালিবন্দরের বাসিন্দা হৃদয় রবি দাস দ্বীপ। সে নগরীর বন্দরবাজার রাজা জিসি হাই স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তার বইও ভেসে গেছে বানের জলে। দ্বীপ বলে, ‘পরিবারের সবার সঙ্গে ছড়ারপাড় রামকৃষ্ণ বালিকা বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলাম।
বাসায় এসে দেখি ঘরে বই-খাতা, জ্যামিতি বক্স কিছুই নেই। সব পানিতে ভেসে গেছে।’
কোম্পানীগঞ্জ থানাবাজার এলাকার সুমাইয়া বেগম। কোম্পানীগঞ্জ থানা সদর মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে সে। গত ১৫ জুন তাদের ঘরে বন্যার পানি ঢোকে। এতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে তার সব বই-খাতা।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ সিলেটের আঞ্চলিক উপপরিচালক জাহাঙ্গীর কবির আহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার জন্য আমরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া যে যে এলাকা উদ্বৃত্ত বই রয়েছে, তা সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রদানের ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তবে সুনামগঞ্জ তো পুরাটাই ক্ষতিগ্রস্ত। সিলেটেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে উদ্বৃত্ত বইয়ে হবে না। আবার নতুন করে এখন বই ছাপানোও কঠিন। তাই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের আমরা অনুরোধ করব, সম্ভব হলে তারা যেন সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ম্যানেজ করে নেওয়ার চেষ্টা করে।’
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল হক বলেন, ‘মজুত থাকা বইয়েরও ৫০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ক্ষতি পোষাতে সিলেট অথবা ঢাকা থেকে বই পাঠাতে হবে।’
সুনামগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, আমাদের ছাতক, দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলার শতভাগ মজুত থাকা বই নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি উপজেলাগুলোয় ২০ শতাংশ নষ্ট হয়েছে।’
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ড. নাছিমা বেগম বলেন, বন্যায় পুরো বিভাগের ২ হাজার ৮৫৫ টির মধ্যে সুনামগঞ্জের সবগুলো বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানোর জন্য বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আমরা অন্য জেলা থেকে বই এনে তাদের দিব।’
সিলেট-সুনামগঞ্জে গত ১৫ জুন থেকে বন্যা শুরু হয়। ৪০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় দেড় লাখ ঘরবাড়ি। কমতে শুরু করলেও, দুই জেলার বেশির ভাগ এলাকা এখনো প্লাবিত।

ট্রেড ইউনিয়নের নামে হয়রানি, খাদ্য মূল্যস্ফীতি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের অভাব ও নিয়মবহির্ভূত স্ট্রিট ফুডের বিস্তারে দেশের রেস্তোরাঁ খাত আগে থেকেই সংকটে ছিল। নতুন করে যোগ হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চরম সংকট। বাড়তি দাম দিয়েও সময়মতো মিলছে না এলপিজি। এতে অনেক রেস্তোরাঁই বন্ধের পথে রয়েছে।
৩১ মিনিট আগে
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় আলোচিত শিশু হৃদয় খান নিবিড় হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে ২১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
৪১ মিনিট আগে
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া খাদ্যগুদামে (এলএসডি) রেকর্ড ছাড়া অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪৫০ কেজি চালের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্বে দেন ঠাকুরগাঁও সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজমীর শরীফ।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর একটি হাসপাতাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) লাশটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে, গতকাল সোমবার রাতে নিজ বাসা থেকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন মেয়ের জামাই। পরে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
১ ঘণ্টা আগে