Ajker Patrika

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলা: মন্ত্রী আরিফ, বাবর ও গউছ বেকসুর খালাস, একজনকে মৃত্যুদণ্ড

সিলেট প্রতিনিধি
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলা: মন্ত্রী আরিফ, বাবর ও গউছ বেকসুর খালাস, একজনকে মৃত্যুদণ্ড
খালাস পাওয়ার পর গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন বিএনপি নেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (এমপি) এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন। তিনি বলেন, মামলার রায়ে আজিজ নাঈম নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অন্যদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় অভিযুক্ত ১০ আসামির মধ্যে ৬ জন জেলহাজতে, ৩ জন জামিনে এবং একজন পলাতক।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ মামলার আসামিরা আদালতে হাজির হন। দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে বিচারক স্বপন কুমার সরকার আসামিদের নির্দোষ সাব্যস্ত করে বেকসুর খালাসের আদেশ দেন।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন এবং একই মাসে মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছিল।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালাস পাওয়া তিন বিএনপি নেতা। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক হয়রানির জন্য গত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এই মামলায় আসামি করে। মামলার এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক চার্জশিটে নাম ঢোকানো হয়। আজ রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়। দীর্ঘদিন আমি কারাবন্দী ছিলাম। যারা আমাকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে, আজ তারা পালিয়েছে। আর আমরা খালাস পেয়েছি।’

হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘এই মামলায় আমাকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দী থাকতে হয়। আজকে রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। জনসভা চলাকালে আকস্মিক গ্রেনেড ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই হামলায় ঘটনাস্থলে যুবলীগের এক নেতা নিহত হন এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অন্তত ২৯ জন গুরুতর আহত হন।

পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি নেতা ও বর্তমান সরকারের প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা সিলেট অঞ্চলের অন্যতম এই শীর্ষ রাজনৈতিক সহিংসতার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অবশেষে সব আসামি খালাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছরের এই আইনি প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত