Ajker Patrika

জগন্নাথপুরে গরমে বাড়ছে শিশুরোগীর সংখ্যা, হাসপাতালে নেই জেনারেটরের ব্যবস্থা

জুয়েল আহমদ, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)
জগন্নাথপুরে গরমে বাড়ছে শিশুরোগীর সংখ্যা, হাসপাতালে নেই জেনারেটরের ব্যবস্থা
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া রোগীর উপচে পড়া ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়াসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। প্রতিদিন দেড় শ থেকে দুই শ রোগী হাসপাতাল চিকিৎসা নিচ্ছে।

আজ সোমবার ৩২ জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৬৯ জন রোগী ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১১০। এসব রোগীর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে রোগী এবং তাদের স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝেতে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সরা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকেরা। এমন অভিযোগ করেছেন হাসপাতালে আসা লোকজন। হাসপাতালে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। একদিকে গরম ও রোগীদের চাপ, অন্যদিকে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ তাঁরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশিসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ২০০ রোগী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিৎসা নিচ্ছে।

আজ সোমবার ১৬৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে শিশু ১১০, পুরুষ ৩০ এবং মহিলা ২৯ জন।

হাসপাতাল আসা উপজেলার চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের ভুরাখালী গ্রামের পাভেল মিয়া বলেন, ‘দুদিন আগে আমার দুই বছরের ছেলে প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয়। জ্বরের সঙ্গে শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। এর মধ্যে কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। হাসপাতালে আনার পর ছেলেকে ভর্তি করিয়েছি।’

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আরেক শিশুর বাবা নন্দীরগাঁও গ্রামের পলাশ মিয়া বলেন, রোগীদের চাপ থাকায় হাসপাতালে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে শয্যা না পেয়ে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে জেনারেটর নেই। এর মধ্যে অসহনীয় লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স জেরিন বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা বেশি; বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। রোগীর চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা সীমিত জনবল এবং সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সব রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।’

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, ‘তীব্র গরমে এসব রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ওয়ার্ডের জন্য কোনো জেনারেটর নেই। আইপিএসে শুধু লাইট জ্বালানো হয়। তবে আমরা জেনারেটরের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি, যাতে করে ওয়ার্ডগুলোয় ফ্যান চালানো যায়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত