
দেশীয় মাছের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরগুলোতে বর্ষার ভরা মৌসুমেও মাছ নেই বললেই চলে। এতে করে সংকটে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। মাছ শিকারকে যাঁরা পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন, তাঁরা এখন বাধ্য হচ্ছেন পেশা পরিবর্তনে। অনেকে বাধ্য হয়ে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ নিচ্ছেন, কেউবা এলাকায় অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো নানা কারণে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।
হাওরে একসময় দেশীয় প্রজাতির মাছ ছিল ১৪৩টি। এর বাইরে ছিল ১২ প্রজাতির বিদেশি মাছ। সুনামগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে ৬৪ প্রজাতি হুমকির মুখে। এগুলোর মধ্যে ৯টি অতিবিপন্ন, ৩০টি বিপন্ন এবং ২৫ প্রজাতি সংকটাপন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইজারা প্রথা, আগ্রাসী মাছ চাষ, রাসায়নিক নির্ভর কৃষি, পাহাড়ি এলাকার কয়লাখনি থেকে ক্ষতিকর পদার্থ পানিতে মেশা, কীটনাশকের ব্যবহারসহ নানা কারণে মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির জলাধার সুনামগঞ্জে ৯৫টি হাওর, ছোট-বড় ২৬টি নদী আর ১ হাজারের বেশি বিল ও জলমহাল আছে। পুরো জেলার জলাশয়ের আয়তন ৬৩ হাজার ৬৬৬ হেক্টর। এর মধ্যে শুধু হাওরের আয়তনই ৩৫ হাজার ৯৯০ হেক্টর। এত বিস্তীর্ণ জলাশয়ে এখন মাছের সংকট প্রকট।
জেলার উন্মুক্ত জলাশয়ে বছরে মাছ উৎপাদিত হয় ৮৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আর পুকুরে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে দেশীয় প্রজাতি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। মহাশোল, সরপুঁটি, ঘারুয়া, বাগাড়, রিঠা, চিতল, নাফতানি, বামোশ, রানী, চাকা, টাটকিনি, বাঁশপাতা, বাছা, ঢেলা, ফলি, দাড়কিনা, আইড়, পাবদা, তিতপুঁটি, কালবাউশ, নান্দিনা, খাশ খাইরা, তিলা শোল, শালবাইম, ঘাং মাগুর, নামা চান্দা, চিংড়ি, কাচকিসহ হরেক প্রজাতির মাছ বিপন্ন ও অতিবিপন্ন পর্যায়ে চলে গেছে।
সুনামগঞ্জে নিবন্ধিত মৎস্যজীবী ১ লাখ ১ হাজার ৩২৯ জন। অনিবন্ধিত আছেন আরও ২০ হাজারের বেশি। কিন্তু মাছ না থাকায় অনেক নিবন্ধিত জেলে পেশা বদল করেছেন। শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর হিলিফ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হিমাদ্রী সরকার বলেন, ‘হাওরে মাছ নেই, মৎস্যজীবীদের রোজগারও নেই। অনেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতে ঢাকায় চলে গেছে। এলাকায় যারা আছে, তারাও কষ্টে রয়েছে।’ তাঁর মতে, জলাভূমি নেতাদের ইজারা দেওয়া হলে তাতে করে মৎস্যজীবীদের কোনো লাভ হয় না। ফলে এই প্রথা বন্ধ করতে হবে।
হাওরে মাছ ধরার নৌকা এখন আগের চেয়ে অনেক কম চোখে পড়ে। পাগনার হাওরে কোনা জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন মুছা মিয়া (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, ‘চার-পাঁচজনে এই জাল টাইন্যা যে মাছ পাওয়া যায়, তাতে একজনে কোনোরকম দুই-তিন শ টাকা কইরা পড়ে। কোনো দিন এইডাও হয় না। হাওরে মাছ নাই কইলেই চলে।’
একসময় যেসব হাওর নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল, সেগুলোও এখন মাছশূন্য। চিতল মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত হালি হাওরের সুন্দরপুর বিল থেকে চিতল উধাও। টাঙ্গুয়ার হাওরের আলংডোয়ারে একসময় ছিল চিতলের খনি। এখন আর নেই। রৌ মাছের জন্য খ্যাত রৌয়ার হাওরেও মাছ মিলছে না। টাঙ্গুয়ার হাওরের জেলে হরলাল দাস বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার আলংডোয়ার একটা জায়গা, যেডা চিতল মাছের খনি আছিল। ওই চিতল মাছ এখন আর নাই। সব শেষ হইয়া গেছে।’
হাওরবিষয়ক গবেষক পাভেল পার্থ দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হাওরের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ অর্থাৎ ঋতুভিত্তিক পানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা বালুতে ডোবা-বিল, জলাভূমি ও কৃষিজমি ভরাট হচ্ছে। এতে হাওর, নদীর উচ্চতায় পার্থক্য তৈরিসহ সংযোগস্থল বিনষ্ট হচ্ছে। ফলে মাছের বিচরণস্থল হুমকিতে পড়ছে।’
পাভেল পার্থ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হাওরের জলাভূমি অপরিকল্পিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত উপায়ে ইজারা দেওয়ায় আগ্রাসী প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক খাবারের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। বর্ষায় পাহাড়ি এলাকার কয়লা-চুনাপাথরের খনি থেকে সিলিকা-সালফার্ড জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশছে। রাসায়নিক নির্ভর কৃষি প্রচলনের ফলেও মাছের প্রজননক্ষেত্র বিনষ্ট হচ্ছে। এটি মাছ, রেণুপোনা ও ডিমে মড়ক সৃষ্টি করছে।’
হাওরে সব ধরনের ইজারা বাতিলের দাবি জানান এই গবেষক। তাঁর মতে, মাছ ধরার অধিকার শুধু জেলেদেরই থাকা আবশ্যক। জলাভূমি ও মাছ সংরক্ষণে জেলে সম্প্রদায়ের লোকায়ত জ্ঞান অর্থাৎ তাদের কৃষ্টি, আচার, রীতি, প্রথাকে জাতীয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি হাওর ও মৎস্য ব্যবস্থাপনায় তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
মাছ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শামশুল করিম। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সময়মতো বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। হাওর পানিস্বল্পতায় ভুগছে। নিষিদ্ধ জাল, কীটনাশক, অপরিকল্পিত বাঁধ, পলি জমে জলাশয় ভরাট, নাব্যতাসংকট—এগুলো মাছ বিলুপ্তির কারণ। এসব কারণে মাছের নির্বিঘ্ন চলাচল ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্য মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন।’

মানিকগঞ্জে এক মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও আওয়ামী লীগের দোসররা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার চেষ্টা প্রতিহত করতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
৮ মিনিট আগে
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার খালুয়া দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে ১১ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ১০ জন শিক্ষক দিয়ে ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে। শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, ওয়াশব্লক ও যাতায়াতের উপযোগী সড়ক না থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের
২০ মিনিট আগে
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে র্যাব পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই চাকরিচ্যুত সেনাসদস্যসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে র্যাবের কটি, ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
২২ মিনিট আগে
ধর্ষণ মামলার আসামির বিচার না চেয়ে আসামিকে স্বামী হিসেবে পেতে চান এক নারী (৩০)। এ জন্য ঝালকাঠির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
২৮ মিনিট আগে