Ajker Patrika

নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: তিন মাস ধরে চালক নেই, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধে ভোগান্তি

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি 
নালিতাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: তিন মাস ধরে চালক নেই, অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধে ভোগান্তি
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: আজকের পত্রিকা

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় তিন মাস ধরে অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সটির চালক গত ডিসেম্বর মাসে অবসরে যান। পরে জনবলসংকটের কারণে তিনি চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর পর থেকে চালকের পদটি শূন্য থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ ও জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৪ সালে একটি বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হলেও সেটির জন্য নির্দিষ্ট কোনো চালক নেই। সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি খরচ ও চালকের পারিশ্রমিক ভাড়ার অর্থ থেকেই মেটানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। তাঁদের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল। প্রয়োজনের তুলনায় একাধিক অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হলেও চালকের অভাবে বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্সই অচল হয়ে আছে। ফলে রোগীদের দ্রুত অন্যত্র পাঠাতে গিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতাল চত্বরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে দাওধারা-কাটাবাড়ি গ্রাম থেকে এক প্রসূতি নারীকে জরুরি ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে স্বজনেরা ভাড়া করা গাড়িতে করে তাঁকে নিয়ে যান। রোগীর স্বজন আবু তাহের বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স থাকলে দ্রুত নেওয়া যেত। গাড়ি খুঁজতে সময় লেগেছে, খরচও বেশি হয়েছে।’

এদিকে সম্প্রতি রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে জমি নিয়ে সংঘর্ষে গুরুতর আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় দ্রুত রোগী স্থানান্তর নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন স্বজনেরা। পরে জেলা শহর থেকে বেশি খরচে গাড়ি এনে তাঁদের ময়মনসিংহে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী জলিল মিয়া (৫৪) বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা আছে, আবার অন্যত্র নেওয়ার অ্যাম্বুলেন্সও বন্ধ—এটা খুব কষ্টের।’

স্বেচ্ছাসেবী হাবিবুল্লাহ পাহাড়ি বলেন, হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে নিজেই যেন রোগীর অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার বাইরে প্রায় সব রোগীকেই ময়মনসিংহে স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানভীর ইবনে কাদের বলেন, চালক না থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি চালু রাখা যাচ্ছে না। বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটির ব্যয় ভাড়ার ওপর নির্ভরশীল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জুনায়েদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, চালকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ হলে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত