Ajker Patrika

লেবাননে নিহত দুজনের মরদেহ ফিরল ২৭ দিন পর, গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
লেবাননে নিহত দুজনের মরদেহ ফিরল ২৭ দিন পর, গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম
আজ সকালে মরদেহ দুটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর ও আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার দুই যুবক শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মরদেহ ২৭ দিন পর আজ রোববার নিজ গ্রামে পৌঁছেছে। আজ সকালে মরদেহ দুটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর ও আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দুই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনেরা সরকারি সহায়তা ও পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন।

নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৮) সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে। অপর দিকে নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২০) আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।

শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে তাঁরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। সরকারি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি লেবানন থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহটি নিয়ে তাঁরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান।

রুমা খাতুন বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে সংসারের স্বপ্ন পূরণ করার কথা ছিল; কিন্তু লাশ হয়ে ফিরতে হবে, কখনো ভাবিনি।’

অন্যদিকে নাহিদের ভাই নাফিজুল ইসলাম জানান, শফিকুল ও নাহিদ একই দিনে লেবাননে গিয়েছিলেন এবং একই দিনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন। আজ বেলা ১১টার দিকে নাহিদের মরদেহ কাদাকাটির বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে শোকের মাতম শুরু হয়।

দুই মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষের ঢল নামে। স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি শফিকুল ও নাহিদ বিপুল ঋণ নিয়ে লেবাননে পাড়ি জমান। সেখানে যাওয়ার পর মাত্র একবার করে ৪০ হাজার টাকা পরিবারের কাছে পাঠাতে পেরেছিলেন। এরপর গত ১১ মে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তাঁদের মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, দুই পরিবারই এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে তারা ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর জীবনযাপনের শঙ্কায় রয়েছে। সরকার, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং অন্তত একজন করে সদস্যের কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শফিকুল ইসলাম প্রায় আট লাখ টাকা ও নাহিদুল ইসলাম পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ করে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি লেবাননে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যান। কিন্তু চার মাসের কম সময়ের মধ্যে বিদেশের মাটিতে প্রাণ হারিয়ে তাঁরা ফিরে এলেন কফিনবন্দী হয়ে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত