Ajker Patrika

লেবাননে নিহত শফিকুল ও নাহিদের বাড়িতে মাতম, লাশ ফিরিয়ে আনার দাবি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
লেবাননে নিহত শফিকুল ও নাহিদের বাড়িতে মাতম, লাশ ফিরিয়ে আনার দাবি
নাহিদুল ইসলাম নাহিদ ও শফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবার দুটি তাদের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে দিশেহারা। সে সঙ্গে বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক টাকা ঋণ করেছিলেন শফিকুল ও নাহিদ। এখন সে ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে চাপে পড়েছেন তাঁদের পরিবারের লোকজন। শফিকুল আর নাহিদের লাশ ফেরত আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবার দুটির সদস্যরা।

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ের জেবদিন এলাকায় গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় শফিকুল (৪৮) ও নাহিদ (২০) নিহত হন।

নিহত শফিকুল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে আর নিহত নাহিদ আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে নাহিদের বাড়িতে শোকার্ত মানুষ। ছবি: আজকের পত্রিকা
আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে নাহিদের বাড়িতে শোকার্ত মানুষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

শফিকুলের মা আজেয়া খাতুন জানান, শফিকুল পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে। তাঁর তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শফিকুল লেবাননে যান। তিনি জেবদিন এলাকায় দুম্বার রাখাল ও বেকারিতে কাজ করতেন। ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কায় ভ্যানে করে নাহিদকে নিয়ে নিরাপদ স্থানের দিকে যাচ্ছিলেন শফিকুল। এ সময় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলে মারা যান তাঁরা।

শফিকুলের বাবা আফসার আলী জানান, শফিকুল ৮ লাখের বেশি টাকা ঋণ করেছেন। এক মাস আগে মাত্র ৪০ হাজার টাকা পাঠাতে পেরেছিলেন। তাঁর দুটি মেয়ে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা তিনি। এখন তাঁদের কী হবে বলে বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যান আফসার আলী।

নাহিদের বাড়িতেও এখন কেবল কান্নার রোল। তাঁর মা নূরনাহার জানান, নাহিদ শফিকুলের সঙ্গে একই সময়ে লেবাননে যান। দুই ভাইয়ের বড় নাহিদ। তিনি আশাশুনির দরগাহপুর কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগে পড়তেন। নাহিদও শফিকুলের সঙ্গে লেবাননে একই কাজ করতেন।

নিহত ব্যক্তিদের লাশ নাখতিয়ের নাবিহো বেরোবি হাসপাতালে রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাহিদের ফুফু রোজিনা খাতুন জানান, নাহিদ বিদেশে যাওয়ার সময় পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে যান। তিনি বিদেশে গিয়ে মাত্র এক মাসের টাকা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁদের লাশ আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত