Ajker Patrika

বেরোবিতে ভর্তি ফি ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি, প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর ও স্মারকলিপি প্রদান শিক্ষার্থীদের

বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবিতে ভর্তি ফি ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি, প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর ও স্মারকলিপি প্রদান শিক্ষার্থীদের
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি ফি ও অন্যান্য ফি হঠাৎ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে শিক্ষার্থীরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভর্তি ফি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, বিদ্যুৎ বিল ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, পরিবহন ফি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং মেডিকেল সেন্টার ফি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যেই তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগকে তাঁরা সাধুবাদ জানান। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক খাতে অতিরিক্ত ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। তাঁদের মতে, এই বর্ধিত ফি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগের অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পুনরায় একই ধরনের অতিরিক্ত ফি আরোপের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দেশের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চল থেকে আগত। বর্তমান জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় হঠাৎ বর্ধিত ফি বহন করা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে, যা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খাতে আরোপিত অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি অবিলম্বে বাতিল করা, ১৬তম আবর্তনের সময় নির্ধারিত ফি কাঠামো পুনর্বহাল করা এবং ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ পরবর্তী সেমিস্টারের ফির সঙ্গে সমন্বয় অথবা সরাসরি ফেরত দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মিনার হোসেন নয়ন বলেন, ‘আমাদের ওপর পূর্বের তুলনায় অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের আর্থিক অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। তাই এত টাকা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা চাই, প্রশাসন আগের ব্যাচগুলোর মতো আমাদের ফিও পূর্বের হার অনুযায়ী বহাল রাখুক।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘আমরা একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখা হবে, তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে কি না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত