Ajker Patrika

পুলিশের অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৪০
পুলিশের অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও
নিহত ছাত্রদল নেতার মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করেন স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের পীরগাছা থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধারে গিয়ে সাভার থানা ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। আজ শনিবার সকাল ৮টার দিকে পীরগাছা থানার সামনে নিহতের মরদেহ রেখে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিহত ওই নেতার নাম মনোয়ারুল বকসি (৩০)। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে। পরিবারটির স্থায়ী বসবাস ছিল সাভারে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রাম থেকে মিমি আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরী নিখোঁজ হলে তাঁর বাবা পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে পীরগাছা থানা-পুলিশ সাভার থানা-পুলিশের সহযোগিতায় ৭ আগস্ট ঢাকার সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।

অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশের ভাষ্যমতে, অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে গিয়ে দেখা যায় মনোয়ারুল বকসি নিচে পড়ে আছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে নিহতের স্বজনদের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের অভিযোগ, নিখোঁজ কিশোরী মিমির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন।

নিহতের স্বজনদের দাবি, উদ্ধার অভিযানে পুলিশের সঙ্গে মিমির বাবা ও অপর এক ব্যক্তি পুলিশের পোশাকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাই মনোয়ারুলকে হত্যা করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ঘটনা জানাজানি হলে সকালে পীরগাছা থানার সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা সেখানে উপস্থিত হয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ঘটনার বিষয়ে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আমরা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনি বিচার দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, নিহতের স্বজনদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হবে। এই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত