Ajker Patrika

রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি

  • ১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে চারটি কূপ খনন।
  • এর মধ্যে তিনটিতে বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান মেলে।
  • খনিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন।
  • উত্তোলনযোগ্য প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।
মিফতাহুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (রংপুর)
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৮: ০২
রংপুরের পীরগঞ্জ: দুই দশকেও চালু হয়নি পীরগঞ্জের কয়লাখনি
পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীরে আবিষ্কৃত কয়লাখনির সাইনবোর্ড।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীরে আবিষ্কৃত সম্ভাবনাময় কয়লাখনির কার্যক্রম প্রায় দুই দশক ধরে সিদ্ধান্তহীনতায় থমকে আছে। ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানির উৎস হিসেবে বিবেচিত হলেও এখনো শুরু হয়নি কয়লা উত্তোলনের কার্যক্রম।

১৯৮৯-১৯৯০ সালের মধ্যে পীরগঞ্জের খালাশপীর এলাকায় প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় চারটি কূপ খনন করা হয়। এর মধ্যে তিনটিতে উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খনিটিতে মোট কয়লার মজুত প্রায় ৪৫১ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ প্রায় ২১০ মিলিয়ন টন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খনিটি চালু হলে এখান থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বছরে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করা হলে প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত উৎপাদন অব্যাহত রাখা যেতে পারে। এতে দেশের কয়লার চাহিদা দীর্ঘ সময়ের জন্য পূরণ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কয়লা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০০৬ সালের আগস্টে খনির সমীক্ষা প্রতিবেদন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) অনুপ কুমার রায় বলেন, ‘গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আমরা প্রস্তুত রেখেছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে আমদানি করা কয়লা ও ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ পীরগঞ্জ উপজেলার খালাশপীর (মাগুরা) গ্রামে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সম্পদ এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

বর্তমানে প্রকল্পটিতে কাজ করছেন ১২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাঁদের কাজ মূলত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা ও খনির রক্ষণাবেক্ষণে সীমাবদ্ধ। খনিটি চালু হলে এলাকার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। এতে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ বলেন, পীরগঞ্জের কয়লাখনি চালু হলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যেতে পারে। এতে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গড়ে উঠবে নতুন শিল্পাঞ্চল, উন্নত হবে যোগাযোগ ও অবকাঠামোব্যবস্থা। আরেক বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, এই কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে দেশের কয়লার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পীরগঞ্জের সংসদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ‘সংসদে সুযোগ পেলে পীরগঞ্জের কয়লাখনির বিষয়টি উত্থাপন করব, যাতে দ্রুত এটি উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া যায়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নিয়োগ

ভিসা সহজীকরণে ৮ মুসলিম দেশের বৈঠক, সভাপতিত্বে বাংলাদেশ

শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুন: অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার ‘শুটার’ বিজেপি-ঘনিষ্ঠ

বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে স্কুলছাত্রের মাথায় শিক্ষকের আঘাত, মুহূর্তেই জ্ঞান হারাল ছাত্র

বিনা দোষে মারধর ও হাতকড়া: মবের রাজত্বে অসহায় শ্যামলরা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত