৬ শিক্ষার্থী, ১১ শিক্ষক–কর্মচারী: সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার গুর্জিপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ বন্ধ, পাঠদানের মানের অবনতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। গত ৩১ অক্টোবর আজকের পত্রিকার অনলাইনে ‘পীরগঞ্জ গুর্জিপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৬, শিক্ষক-কর্মচারী ১১ জন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ নভেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে প্রবেশপথ বন্ধ দেখতে পান। ওই সময় বিদ্যালয়ে মাত্র ছয়জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। এ ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষকের অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, গত দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পাঠদানের মানের দৃশ্যমান কোনো উন্নতি পাওয়া যায়নি। উল্টো দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও প্রধান শিক্ষক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
নোটিশে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়টিও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতি হিসেবে উল্লেখ করে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর কোনো বক্তব্য নেই বলে ধরে নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের এ পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।










