Ajker Patrika

কমনরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা, গোপনীয়তা নিয়ে ক্ষুব্ধ জাফর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি  
কমনরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা, গোপনীয়তা নিয়ে ক্ষুব্ধ জাফর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
পীরগঞ্জের জাফর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কমনরুমে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের কমনরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত কমনরুমে ক্যামেরা থাকায় তারা অস্বস্তিবোধ করছেন। এতে তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কমনরুম এমন একটি স্থান, যেখানে তাঁরা ক্লাসের ফাঁকে বিশ্রাম নেন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজন সারেন। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় তাঁরা স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করতে পারছেন না। দ্রুত ক্যামেরাটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশা মনি বলেন, ‘কমনরুমে আমরা ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও যাই। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকায় সব সময় অস্বস্তি লাগে। আমরা চাই ক্যামেরাটি সরিয়ে নেওয়া হোক।’ আরেক শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ের অন্য জায়গায় ক্যামেরা থাকতে পারে। কিন্তু কমনরুমে ক্যামেরা থাকা আমাদের গোপনীয়তার পরিপন্থী।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম মনি বলেন, ‘কমনরুমে গেলে সব সময় মনে হয় কেউ আমাদের পর্যবেক্ষণ করছে। এতে আমরা মানসিকভাবে অস্বস্তিতে থাকি।’ আরেক শিক্ষার্থী পারভীন বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তার বিপক্ষে নই। তবে কমনরুমে সিসিটিভি না রেখে করিডর বা বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে স্থাপন করা উচিত।’

এ বিষয়ে কয়েকজন অভিভাবকও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করিডর, প্রবেশপথ বা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু কমনরুমে ক্যামেরা স্থাপন শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেজবাহুল রহমান বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা জাতীয় নির্বাচনের সময় লাগানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার সময় রাখা হয়েছিল। আমি কয়েক দিন থেকে ইলেকট্রিশিয়ান ডাকতেছি, কিন্তু সময় পাচ্ছে না তাই খোলা হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত