Ajker Patrika

সেচ নিয়ে কৃষককে হয়রানি নয়, মাঠে গিয়ে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
সেচ নিয়ে কৃষককে হয়রানি নয়, মাঠে গিয়ে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ
আজ দুপুরে বিএমডিএর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শনে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান। ছবি: আজকের পত্রিকা

সেচ নিতে গিয়ে কৃষক যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোরভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক (ইডি) জাহাঙ্গীর আলম খান। তিনি বলেছেন, পানির অভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলের কোনো জমি অনাবাদি পড়ে থাকতে দেওয়া হবে না। কৃষকের সমস্যা জানতে কর্মকর্তাদের মাঠে যেতে হবে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

রোববার রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এবং নওগাঁর নিয়ামতপুর, সাপাহার, পত্নীতলা, মহাদেবপুর, ধামইরহাট ও পোরশা এলাকায় বিএমডিএর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জাহাঙ্গীর আলম খান। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁদের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন সমস্যা, বাস্তবতা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য শুনে জাহাঙ্গীর আলম খান মাঠপর্যায়ে চিহ্নিত সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে কৃষকদের সেচসুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরিচালক বলেন, বিএমডিএর কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষককে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া। বরেন্দ্র অঞ্চলের কোনো জমি শুধু পানির অভাবে অনাবাদি পড়ে থাকবে—এটা তাঁরা চান না। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের পানি নিশ্চিত করে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা তাঁদের লক্ষ্য।

জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে গিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির অপচয় রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে নতুন সেচসুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কৃষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, কৃষক যেন সেচের জন্য হয়রানির শিকার না হন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। মাঠে গিয়ে কৃষকের কথা শুনতে হবে এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। কোনো প্রকল্প বা কার্যক্রম শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; সেই প্রকল্পের সুফল কৃষকের মাঠে পৌঁছেছে কি না, সেটিই দেখতে হবে।

বিএমডিএর গভীর নলকূপগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, সেচের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে কৃষকদের সেচসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে সেচ ব্যবস্থায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।

মতবিনিময়কালে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জনবল সংকট, সেচযন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন নির্বাহী পরিচালক।

মাঠ পরিদর্শন ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিভিন্ন জোন কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত