Ajker Patrika

ফের রোগীর সংকট, বাংলাদেশে লিয়াজোঁ টিম পাঠাচ্ছে কলকাতার হাসপাতালগুলো

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ১৩
ফের রোগীর সংকট, বাংলাদেশে লিয়াজোঁ টিম পাঠাচ্ছে কলকাতার হাসপাতালগুলো
কলকাতায় সস্তা হোটেলে থাকতে গিয়ে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতায় চিকিৎসা পর্যটনে ধস নামার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং রোগীদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতার বড় হাসপাতালগুলো। বাংলাদেশে দল পাঠানো থেকে শুরু করে সংলগ্ন এলাকার বৈধ হোটেলগুলোর সঙ্গে চুক্তি—হরেক রকমের উদ্যোগ নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিকসহ নয়জনের মৃত্যুর পর স্থানীয় সস্তা হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নামে প্রশাসন। ওই ঘটনার পর কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন একটি ভ্রমণ নির্দেশিকা (অ্যাডভাইজরি) জারি করে।

সেই নির্দেশিকায় বলা হয়, চিকিৎসাসহ যেকোনো কাজে কলকাতায় যাওয়ার আগেই রোগীদের বৈধ ও অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র থাকা নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুকিং করা উচিত।

তবে কলকাতার হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক রোগীই সড়কপথে ভারতে যান এবং কলকাতায় পৌঁছে কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন। আগে থেকে নিরাপত্তা ছাড়পত্রযুক্ত হোটেল বুক করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে আসা চিকিৎসাপ্রার্থীদের সংখ্যা কিছুটা কমেছে।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতার একাধিক বড় হাসপাতালের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে। তারা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে ভ্রমণ সম্পর্কিত নির্দেশিকা দেওয়া এবং নিরাপদ আবাসন বুকিংয়ে সহায়তা করবে।

বিপি পোদ্দার হাসপাতালের গ্রুপ অ্যাডভাইজার সুপ্রিয় চক্রবর্তী টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাবে। এ ছাড়া দক্ষিণ কলকাতায় তাঁদের হাসপাতালের খুব কাছেই নিজস্ব নিরাপদ আবাসনসুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে, যা খুব শিগগিরই চালু হবে।

উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের সিইও এবং ইস্টার্ন ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস (এএইচইআই)-এর সভাপতি রূপক বরুয়া বলেন, ‘আমরা আলিপুর এলাকার বেশ কয়েকটি হোটেল ও গেস্ট হাউসের সঙ্গে চুক্তি করেছি। আগামী দুই সপ্তাহে যেসব রোগী আমাদের হাসপাতালে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের আমরা এই হোটেলগুলোর তালিকা পাঠাচ্ছি যাতে তাঁরা আগে থেকেই রুম বুক করে আসতে পারেন।’

রূপক বরুয়া আরও উল্লেখ করেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তির জন্য মেডিকেল ভিসা প্রয়োজন হলেও আউটডোর (ওপিডি) রোগীদের আলাদা করে মেডিকেল ভিসার প্রয়োজন হয় না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য অনেক সময় রোগীদের হোটেলে অবস্থান করতে হয়।

এদিকে রুবি জেনারেল হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ডেডিকেটেড ডেস্ক চালু করেছে। হাসপাতালের অপারেশনস প্রধান শুভাশিস দত্ত জানান, তাঁরা নিকটস্থ নিরাপদ থাকার জায়গাগুলোর তালিকা তৈরি করে আগেই রোগীদের সঙ্গে শেয়ার করছেন।

একইভাবে ডেসুন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সজল দত্ত মনে করেন, নির্দেশিকার কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিলেও প্রকৃত চিকিৎসাপ্রার্থীদের কলকাতায় আসা বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, ‘রোগীর নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। কলকাতা পৌঁছানো থেকে শুরু করে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফেরা পর্যন্ত রোগীদের একটি নিরাপদ অভিজ্ঞতা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত