Ajker Patrika

আমি কিচ্ছু চাই না, দেশটা ভালো চলুক—হুইলচেয়ারে বসা ভোটারের বড় স্বপ্ন

দীন ইসলাম, রাবি
আমি কিচ্ছু চাই না, দেশটা ভালো চলুক—হুইলচেয়ারে বসা ভোটারের বড় স্বপ্ন
হুইলচেয়ারে করেই ভোট দিতে আসেন বাবু। ছবি: আজকের পত্রিকা

সকালের নরম রোদ তখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে কাজলা এলাকায়। ভোটকেন্দ্রের সামনে ভিড় বাড়ছে সময়ের সঙ্গে। সেই ভিড়ের মাঝেই হুইলচেয়ারে এগিয়ে যাচ্ছেন মেহেদি হাসান বাবু। পাশে পরিবারের সদস্যরা। ৭ বছর ধরে হাঁটতে পারেন না তিনি। আজ তাঁর চোখেমুখে যে দৃঢ়তা, তা কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয়।

আজ বৃহস্পতিবার গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সকালেই হাজির হন বাবু। তাঁর বাসা কাজলার আলমের মোড়ে। কেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার সময় কয়েকজন সহায়তা করেন। সকলের সহযোগিতায় ভোট প্রদান সম্পন্ন করেন তিনি।

ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর তাঁর মুখে ছিল প্রশান্তির হাসি। পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ফিরলেও বাবু ফিরতে চাননি। কাজলার এক রাস্তার মোড়ে বসে পড়েন তিনি। আশপাশের মানুষের সঙ্গে গল্প করেন, নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা ভাগাভাগি করেন। দীর্ঘদিন পর নিজেকে এত আনন্দিত মনে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বাবুর কথায় নেই কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার হিসাব। নেই অভিযোগ কিংবা হতাশা। বরং আছে এক গভীর মানবিক প্রত্যাশা। তিনি বলেন, ‘আমি হাঁটতে পারি না, এটা আল্লাহর ইচ্ছা। কিন্তু আমি চাই দেশটা ভালো থাকুক। আমার মতো অনেকের পরিবার আছে। সবাই যেন শান্তিতে থাকতে পারে, সেটাই চাই।’

নিজের জন্য সরকারের কাছে কিছু চান কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি কিচ্ছু চাই না ভাই। আমার নিজের জন্য কিছু লাগবে না। দেশটা ভালোভাবে চলুক, এটাই চাই। যেই সরকার আসুক, তারা যেন দেশকে ঠিকভাবে চালায়।’ বারংবার বাবুকে একটি কথাই বলতে শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘নিজের জন্য আমি কিচ্ছু চাই না। দেশটা ভালোভাবে চলুক।’

স্থানীয়রা জানান, বাবু প্রাণবন্ত স্বভাবের মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে ঘরে আটকে রাখেনি। এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড, জাতীয় বিষয়-সবকিছুতেই তাঁর আগ্রহ। নির্বাচনকে তিনি দেখেন দায়িত্ব হিসেবে, অধিকার হিসেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত