Ajker Patrika

জুডিশিয়াল সার্ভিসে প্রবেশে ৫ বছর ওকালতি বাধ্যতামূলক চায় রাজশাহী বার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৮: ৫৬
জুডিশিয়াল সার্ভিসে প্রবেশে ৫ বছর ওকালতি বাধ্যতামূলক চায় রাজশাহী বার

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে (সিভিল জজ) নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি কমপক্ষে পাঁচ বছর ওকালতির বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশন।

আজ বুধবার (১০ জুন) এ বিষয়ে বারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে।

ডাকযোগে পাঠানো এই অনুরোধপত্রে স্বাক্ষর করেন রাজশাহী বারের সভাপতি মো. আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিয়োগের জন্য আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং কমপক্ষে পাঁচ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা বাস্তবভিত্তিক কারণে প্রয়োজন।

আবেদনে বলা হয়, ‘২০০৭ সালে বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার সময়েও দুই বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয়ও অধস্তন জুডিশিয়ারিতে প্রবেশের জন্য আইন পেশার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ১০ বছরের ওকালতির বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রয়োজনে অধস্তন জুডিশিয়ারি প্রবেশ ও অবসর বিষয়ে বয়সসীমা পরিবর্তন করা যেতে পারে।’

তাঁরা আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং কমপক্ষে পাঁচ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছাড়াও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সিভিল জজ নিয়োগের আবেদন জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী বলেন, ‘উনারা পরীক্ষা দিচ্ছেন, পরীক্ষা দেওয়ার পরে বলতে গেলে তিন মাস প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরেই উনারা বিচারক হয়ে বসে যাচ্ছেন। এতে হচ্ছে কী, স্বাভাবিকভাবেই একটা অভিজ্ঞতার বিষয় আসছে। এই অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে বিচারব্যবস্থায় অনেক সময় প্রবলেম তৈরি হচ্ছে।’

পারভেজ তৌফিক জাহেদী বলেন, ‘এটা ২০০৭ সালেও ছিল। বিচারক হতে গেলে প্রথম অবস্থায় দুই বছরের ওকালতি বাধ্যতামূলক। পরে এটা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশেও পাঁচ বছর আছে। সব ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। এটা না হলে নতুন বিচারকেরা অনেক সময়... নতুন যেহেতু তাঁরা; অভিজ্ঞতা-প্রশিক্ষণের বিষয় থাকে। তিন মাসের ট্রেনিংয়ে এটা হয় না। ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষ হয়রানির শিকার হন, ক্ষতিগ্রস্ত হন।’

বিজ্ঞ এই আইনজীবী বলেন, ‘যেকোনো পেশায় অভিজ্ঞতা একটা বিষয়। নতুন একজন সাংবাদিক যখন নিয়োগ হবে, সে তো অনেক কিছু বুঝবে না। কাজ করে করে তাকে শিখতে হবে। বিচার তো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনোভাবে তার অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেও মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটা যাতে না হয়।’

হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জাহেদী বলেন, ‘ক্ষেত্রবিশেষে দেখা যাচ্ছে, একটা মামলায় আসামিপক্ষ জামিন চেয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে ধারা আপসযোগ্য; বাদীপক্ষ বলেছে যে, জামিনে আপত্তি নেই, তাদের আপস হয়ে গেছে। ধারা অনুযায়ী সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ বিচারক হলে সঙ্গে সঙ্গে জামিনও দেবেন, মামলাও উইথড্রো হয়ে যাবে; কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অভিজ্ঞতার অভাবে সেই বিচারক জামিনটা দিলেন না। এই রকম অনেকগুলো সমস্যা তৈরি হয়। বিচারক ইচ্ছা করে এটা করেন আমি কিন্তু তা বলছি না, এটা অভিজ্ঞতার অভাবে হয়।’

জাহেদী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন তাঁদের দাবি বাস্তবায়ন করবে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এটা হবে। অবশ্যই হবে, কেন হবে না? আমরা যারা আইনে আছি, বাংলাদেশে ৬৪ জেলার বারে যাঁরা অ্যাডভোকেট আছেন; বার সমিতিতে যাঁরা দায়িত্বে আছেন—কথা বলে দেখবেন, তাঁদের সবার একই কথা।’

জাহেদী আরও বলেন, ‘যখন হাইকোর্ট বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ হয়, তখন ওখানে ১০ বছর অভিজ্ঞতা লাগে অথবা জেলা জজ পর্যায়ে তাঁর ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা লাগে। এগুলো প্রয়োজন। এগুলো তো এমনিই করা হয় না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত