Ajker Patrika

রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিককে মারধর ও হেনস্তা

রাবি প্রতিনিধি  
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৩৮
রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষের ঘটনায় সাংবাদিককে মারধর ও হেনস্তা
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনার মধ্যেই সাংবাদিককে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে সাংবাদিক আতিকুর রহমান মারধরের শিকার হন। এ সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর মুঠোফোন থেকে ভিডিও মুছে ফেলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আতিকুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন আতিকুর রহমান। অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন সাংবাদিক আতিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন সাংবাদিক আতিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

অভিযোগপত্রে আতিকুর রহমান বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখেন তিনি। মিছিলটির সামনে থেকে তিনি ভিডিও ধারণ করছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁরা তাঁর বিভাগ ও ভিডিও ধারণের কারণ জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তাঁকে ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়। চাপের মুখে তিনি ভিডিওটি মুছে দেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও মুছে ফেলার পরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন নিয়ে ফোনে থাকা অন্যান্য ভিডিও-ও মুছে দেন।

আতিকুর রহমান অভিযোগপত্রে বলেন, এ ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাংবাদিক হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঘটনা ও ভিডিও ধারণ করা তাঁর পেশাগত দায়িত্বের অংশ। দায়িত্ব পালনের সময় এ ধরনের হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান আতিকুর রহমান। ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

প্রক্টরের পক্ষে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে প্রক্টরিয়াল টিম কাজ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সাংবাদিক লাঞ্ছিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। তদন্তে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই শেষে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হবেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত