Ajker Patrika

দলবদ্ধ ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, প্রধান আসামি বিএনপি নেতা পলাতক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ২২: ২২
দলবদ্ধ ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, প্রধান আসামি বিএনপি নেতা পলাতক
প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে এক স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা। রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তবে প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল মিয়া (৫০) পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার, ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বিএনপি নেতা বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক লোক তাকে ধর্ষণ করে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাদের ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী।

পরিবারের অভিযোগ, ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে ভুক্তভোগী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। এ ঘটনায় গতকাল রাতে বকুল মিয়াসহ ৫ জনের নামোল্লেখ ও আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন ছাত্রীর বাবা।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী বলে, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বকুল মিয়া ও আবু মিয়া আমাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যেত। তখন আমি কিছু বুঝতাম না। তারা অন্য মানুষকে দিয়েও আমাকে ধর্ষণ করিয়েছে। আমি যে বলে দিয়েছি, সে জন্য আমাকে মেরে ফেলতে পারে। আমি এসবের কঠিন বিচার চাই।

কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। আজ রাতেই বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত