
প্রায় ছয় বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন তিন ব্যাচের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে অতিথি ও গ্র্যাজুয়েটদের আসন গ্রহণ, শোভাযাত্রা, স্বাগত বক্তব্য, ডিগ্রি উপস্থাপন ও গ্রহণ, শুভেচ্ছা ও সমাবর্তন বক্তব্য শেষে সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়। পরে বেলা আড়াইটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সভাপতিত্বে সমাবর্তনে প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব, বিশেষ অতিথি পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ও সমাবর্তন বক্তা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায় ও নৈতিকতার পক্ষে দাঁড়াতে সক্ষম দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আপনারা যে অধ্যবসায় ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, সেটিই আপনাদের অন্যতম বড় অর্জন।’
উপাচার্য বলেন, ‘আজকের প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে হলে জ্ঞানকে মানবতার সেবায় নিয়োজিত করতে হবে, ন্যায়ের পক্ষে রাখতে হবে কণ্ঠস্বর এবং সততাকে রাখতে হবে জীবনের মূলনীতি হিসেবে। আপনারা এমন এক জাতির প্রতিনিধিত্ব করছেন, যার সম্ভাবনা অপরিসীম। এই দেশ আপনাদের সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও ন্যায়পরায়ণ মানসিকতার দিকে তাকিয়ে আছে।’
সভাপতি অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, আজকের দিনটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্জনের নয়, বরং এই ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান ও অবস্থানের স্বীকৃতি। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পেশাগত দক্ষতা অর্জনের স্থান নয়, এটি নৈতিকতা, বিবেক ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার শিক্ষাকেন্দ্র। এখানে ধারণা ও মূল্যবোধ গড়ে ওঠে, যা সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখে।

চৌধুরী রফিকুল আবরার আরও বলেন, বাংলাদেশে দক্ষ পেশাজীবীর প্রয়োজন থাকলেও শিক্ষা যেন কেবল চাকরির প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় হলো জনগণের আমানত, যেখানে অর্জিত জ্ঞান সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়াই মূল লক্ষ্য।
শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্ব, সচেতনতা ও সমালোচনামূলক চিন্তা ও সাহসিকতার সঙ্গে জনজীবনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ঐতিহ্য ও আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান সব সময়ই ন্যায় ও বিবেকের পক্ষে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়ে এসেছে।
সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, ‘এই সমাবর্তন যেমন একদিক থেকে তোমাদের শিক্ষাযাত্রার সমাপ্তি, অন্যদিকে তোমাদের বৃহৎ দায়িত্ব অর্পণ করে। আজকের এই অর্জন তোমাদের আগামী দিনের দায়িত্ব পালনের সোপান। তোমরা সর্বস্তরে নিজ নিজ দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করবে।’
এস এম এ ফায়েজ আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট প্রয়োজন। যারা এ দেশের উন্নয়নে সম্মুখসারিতে থেকে অবদান রাখবে। এটি এমন এক বিনিয়োগ, যা এই বিশ্বাস ধারণ করে যে, জ্ঞান ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধারণ করে না, বরং জনসাধারণের মঙ্গলের জন্যই। তোমরা জনসাধারণের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে, তাদের মঙ্গলে কাজ করবে। ক্রম পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে ওয়ার্ল্ড ক্লাস সিটিজেন থাকার জন্য নিজের মধ্য দিয়েই পরিবর্তনের শুরু করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরসহ বিভিন্ন অনুষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবারের সমাবর্তনে ৬০, ৬১ ও ৬২ ব্যাচের ৫ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর আগে সর্বশেষ একাদশ সমাবর্তন ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।

সবগুলো মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আপিল বিভাগ সাত মামলায় জামিন বহাল রাখার পর কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় থাকার সময় নতুন করে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় খোবাইব নামে এক যুবককে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় গত ২৩ মে। এই মামলায়ও গত বুধবার তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন
২ মিনিট আগে
গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়ায়। প্রশাসন তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
৯ মিনিট আগে
দুপুরে গোসল শেষে নতুন পোশাক পরে দাদা ও বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে উঠেছিল সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু বন্ধন চন্দ্র রায়। গন্তব্য ছিল তুলশীহাটের একটি বিয়ে বাড়ি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা কয়েক মিনিটের মধ্যেই রূপ নেয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা।
১৪ মিনিট আগে
সভায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডিএসসিসির কর্মকর্তারা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই কমিটি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলভিত্তিক বৃক্ষরোপণের একটি সুনির্দিষ্ট...
২১ মিনিট আগে