Ajker Patrika

মেরে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর দাঁত ভেঙে দিলেন শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
মেরে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর দাঁত ভেঙে দিলেন শিক্ষক
জুবায়ের হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর করে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার বিকেলে উপজেলার রেলবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জুবায়ের হোসেন (১৩) রেলবাজার এলাকার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। বর্তমানে শিশুটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জুবায়ের হোসেনের বাড়ি জেলার তানোর উপজেলায়। তার তিনটি দাঁত নড়ে গেছে। একটি দাঁত অর্ধেক ভেঙে গেছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বুকে রক্ত জমাট বেঁধেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইয়াসিন আলী। ঘটনার পর থেকে তিনি মাদ্রাসায় অনুপস্থিত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত সোমবার বিকেলে মাদ্রাসায় গিয়ে প্রতিবাদ জানান। উপযুক্ত বিচার না হলে প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

হাসপাতালে জুবায়েরের মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আসরের নামাজের সময় সবাই খেলে। ওই সময় পাশে এক বড় ভাই মোবাইল দেখছিল। সেখানে আমার ছেলেও যায়। সেও মোবাইল দেখছিল। তখন শিক্ষক ইয়াসিন আলী তাকে দেখেন। দেখার পর আমার ছেলের গলা টিপে ধরেন। তারপর একটা থাপ্পড় দেন। সে তখন দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। এরপর তুলে ধরে নাকের কাছে মারেন। এ সময় তিনটা দাঁত নড়ে গেছে। একটা দাঁতের অর্ধেক ভেঙেই পড়ে গেছে। রক্ত পড়তে শুরু করে। জ্ঞান হারানোর মতো অবস্থা। এই সময় তাকে আবার তুলে বল যেভাবে ছুড়ে মারে, ওইভাবে মেরেছে।’

ফাতেমা বেগম আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে আমার ছেলেকে প্রথমে ক্লিনিকে নিয়ে যাই। ক্লিনিক থেকে বলেছে যে খুব সিরিয়াস হয়ে গেছে। ক্লিনিকে হবে না। লিভারে রক্ত জমা হয়ে গেছে। রাজশাহী নিয়ে যাওয়া লাগবে। তাই এখানে এনেছি। এখন ডাক্তার বলছে, সুস্থ হতে কয়েক দিন সময় লাগবে।’

শিশুটির মা বলেন, ‘একটা ছোট বাচ্চাকে কেউ এভাবে মারতে পারে, সেটা বিশ্বাসই করা যায় না। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াসিন আলী ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাওলানা দুরুল হুদাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে নাটোরে এ রকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। ফেসবুকে সেটা দেখে আমি এক মিটিংয়ে সব শিক্ষককে বলেছিলাম, মাসুম বাচ্চাদের সঙ্গে যেন এমন কোনো ঘটনা না ঘটে। তারপরও এটা হয়েছে। আমাকে জানানোও হয়নি। গতকাল মসজিদে গিয়ে শুনেছি। এর উপযুক্ত বিচার হবে।’

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে হট্টগোল করেছে। তখন আমি ঘটনাটি জানতে পেরেছি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত