Ajker Patrika

তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকটে পদ্মায় ফেরি চলাচল ব্যাহত

রাজবাড়ী সংবাদদাতা
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ০৬
তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকটে পদ্মায় ফেরি চলাচল ব্যাহত
নাব্য সংকটে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জে ফেরি বন্ধ, দৌলতদিয়ায় ঘাটে ভিড়তে পারছে না ফেরি। ছবি: আজকের পত্রিকা

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত ও নাব্যতা সংকটে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে গত সোমবার দুপুর থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সময়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘাট সংকট, নাব্যতা সমস্যা ও তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে রোরো ফেরি ‘গোলাম মওলা’ ভিড়তে না পেরে পাটুরিয়ায় ফিরে যায়।

রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে তীব্র স্রোতের কারণে গত সোমবার বিকেল থেকে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধাওয়াপাড়া বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম।

রবিউল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নদীর স্রোতের তীব্রতা কমলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফেরি চলাচল আবার স্বাভাবিক করা হবে।

যাত্রী ও যানবাহন চালকদের অভিযোগ, নদীর স্রোতের পাশাপাশি ঘাটের অব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত ফেরির অভাবেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নৌরুটটিতে মানসম্মত ফেরির সংকট। একটি পুরোনো ও নিম্নমানের ফেরি দিয়ে কোনোমতে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। নদীর পরিস্থিতি কিছুটা প্রতিকূল হলেই ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ১৪ দিন ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবার বন্ধ হওয়ায় যাত্রী ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদ হোসেন বলেন, ‘নদী উত্তাল থাকলে ফেরি পারাপারে সময় ও জ্বালানি দুটিই বেশি লাগে। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ার অজুহাতে ফেরি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে পারাপার বন্ধ রাখছে।’

নাব্য সংকটে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জে ফেরি বন্ধ, দৌলতদিয়ায় ঘাটে ভিড়তে পারছে না ফেরি। ছবি: আজকের পত্রিকা
নাব্য সংকটে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জে ফেরি বন্ধ, দৌলতদিয়ায় ঘাটে ভিড়তে পারছে না ফেরি। ছবি: আজকের পত্রিকা

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৪ নম্বর ফেরিঘাটে পাটুরিয়া থেকে আসা রোরো ফেরি ‘গোলাম মওলা’ ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিটি নিরাপদে ঘাটে ভিড়তে পারেনি। পরে ফেরিটি পাটুরিয়ার দিকে ফিরে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ফেরিটি ভেড়ানোর সময় ৪ নম্বর ঘাটের পন্টুনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁদের মতে, ঘটনাটি ঘাটের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নদীর অবস্থা স্পষ্ট করেছে।

দৌলতদিয়া প্রান্তের সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে ৭ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। ঘাটটি সচল করতে এখনো ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে সচল ঘাটগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং প্রতিকূল নদী পরিস্থিতিতে ফেরিগুলো নিরাপদে ঘাটে ভেড়াতে সমস্যায় পড়ছে।

ঢাকাগামী একটি পণ্যবাহী গাড়ির চালক বলেন, দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘাট সংকট দীর্ঘদিনের। অনেক সময় ঘাটে এসে ফেরি ভিড়তে পারে না। এতে যানবাহন নিয়ে চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

ওই চালক বন্ধ থাকা ঘাটগুলো দ্রুত সচল করার পাশাপাশি নাব্যতা সংকট দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাউদ্দিন বলেন, নদীতে বর্তমানে স্রোত রয়েছে এবং ঘাটেরও কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের কোনো অতিরিক্ত চাপ নেই।

মো. সালাউদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে পালাক্রমে ৯টি ফেরি চলাচল করে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর স্রোত, ঘাটের নাব্যতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমন্বিত সমাধান না হলে সামনে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ফেরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বন্ধ থাকা ঘাটগুলো দ্রুত সচল, নাব্য সংকটের এলাকায় জরুরি ড্রেজিং এবং ক্ষতিগ্রস্ত পন্টুন ও ঘাটের অবকাঠামো মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত