Ajker Patrika

রাজবাড়ীতে পদ্মায় ভেসে উঠছে কুমির, আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ী সদরের বরাট ইউনিয়নে উড়াকান্দায় পদ্মা নদীতে ভেসে ওঠা কুমির। ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ী সদরের বরাট ইউনিয়নে উড়াকান্দায় পদ্মা নদীতে ভেসে ওঠা কুমির। ছবি: সংগৃহীত

তিন দিন ধরে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে কুমির বিচরণ করতে দেখা গেছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তীরবর্তী এলাকায় নদীতে কখনো সকালে, কখনো দুপুরে কুমির ভেসে উঠছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। হঠাৎ পদ্মায় কুমির বিচরণের খবর শুনে তা দেখতে নদীতীরে ভিড় করছে উৎসুক জনতা।

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নে উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নদীপাড়ে ভিড় করছে উৎসুক জনতা। অধীর আগ্রহে তারা তাকিয়ে রয়েছে নদীর দিকে। যদি দেখা মেলে কুমিরের।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিক বলেন, ‘শুনেছি গত দুই-তিন দিন ধরে এখানে কুমির ভেসে উঠছে। আজ সকালেও দুইবার দেখা গেছে। এটা শুনে দেখতে এসেছি। তবে দেখতে পাইনি এখনো।’

পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আবুল খাঁ বলেন, এখানে সকাল-বিকেল মানুষ গোসল করে। কুমিরের ভয়ে লোকজন নদীতে নামতে পারছে না। প্রশাসন এসে ধরে নিয়ে যাক।

রাজবাড়ী সদরের বরাট ইউনিয়নে উড়াকান্দায় আজ মঙ্গলবার পদ্মা নদীতে কুমির দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ী সদরের বরাট ইউনিয়নে উড়াকান্দায় আজ মঙ্গলবার পদ্মা নদীতে কুমির দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়। ছবি: সংগৃহীত

মাসুদ মোল্লা নামের আরেকজন বলেন, ‘কুমির ধরার ব্যবস্থা করা লাগবে। তা না হলে মানুষের সমস্যা হচ্ছে। নদীতে গোসল করি, গরু-ছাগল গোসল করাই। কুমিরের ভয়ে দুই দিন ধরে কেউ নদীতে নামছে না।’

রবিউল রবি নামের এক যুবক একটি কুমিরের ছবি পোস্ট করে তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘রাজবাড়ী উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে আজ (মঙ্গলবার) এই কুমিরটি দেখা গেছে। সকাল থেকে বেশ কয়েকবার কুমিরটি নদীতে ভেসে উঠেছে। যে স্থানে কুমিরটি দেখা গেছে, সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ গোসল করে। এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সবার সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।’

রাজবাড়ী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর সায়েদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমিও মাগরিবের নামাজের পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। যেহেতু সন্ধ্যা হয়ে গেছে, তাই আমরা ঘটনাস্থলে যাইনি। আগামীকাল (বুধবার) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই এলাকায় লাল নিশানা দিয়ে আসব। পাশাপাশি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিষয়টি জানাব। এ ছাড়া এলাকাবাসীকে সচেতন করতে মাইকিং করা হবে।’

মীর সায়েদুর রহমান আরও বলেন, ‘যেহেতু মূল নদীতে ভেসে উঠেছে, সে ক্ষেত্রে কুমির তো ধরা সম্ভব না। যদি শাখা নদীতে ভেসে উঠত, আমরা চেষ্টা করতাম। আপাতত এলাকাবাসীকে সচেতন করা ছাড়া কিছু করার নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত