Ajker Patrika

ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে অস্ত্র মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে অস্ত্র মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি
দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব সালাউদ্দিন রিপন শরীফ। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পরোয়ানাভুক্ত আসামির উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে ইউএনও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়া প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব সালাউদ্দিন রিপন শরীফ, যিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি এবং একটি অস্ত্র মামলারও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া ছিলেন ১৩ নম্বর আসামি ওহাব ও ২৬ নম্বর জসিম উদ্দিন হাওলাদার।

জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইউএনও আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর কার্যালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন। কার্যালয়ের প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রাখা হয়েছে এবং অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষাতের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তির ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করে শুভেচ্ছা বিনিময়ে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে সমালোচনা।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটোন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সালাউদ্দিন রিপন শরীফ আদালতে হাজির হননি। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা তাঁকে মাঝেমধ্যে খুঁজে থাকি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মারামারির ঘটনায় করা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। এ ছাড়া একটি অস্ত্র মামলারও ওয়ারেন্ট তাঁর নামে রয়েছে। কীভাবে তিনি ইউএনও অফিসে গেলেন, সেটি আমার জানা নেই। কিছুক্ষণ আগে আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত