Ajker Patrika

পঞ্চগড় সীমান্তে ৬০ ঘণ্টা আটকে ১০ নাগরিক, ৪ জনের আধার কার্ডও নিয়ে গেছে বিএসএফ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ২২: ৫৫
পঞ্চগড় সীমান্তে ৬০ ঘণ্টা আটকে ১০ নাগরিক, ৪ জনের আধার কার্ডও নিয়ে গেছে বিএসএফ
সীমান্তের কাঁটাতারের ওপর ফ্লাডলাইটগুলো যেন শূন্যরেখায় থাকা মানুষগুলোর মনের মধ্যে থাকা এতটুকু আশার প্রতীক হয়ে জ্বলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সবজির ব্যবসা করতেন শামসুল। পরিবারসহ তিনি সেখানেই বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে ভারতীয় পুলিশ তাঁদের আটক করে। এরপর বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তরের পর বড়বাড়ি সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হয়। গত শুক্রবার ভোরের দিকে তাঁদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাতে বাধা দেয়। বিজিবির বাধার মুখে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এর পর থেকে সীমান্তের শূন্যরেখাসংলগ্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে জলা এলাকায় পড়ে আছেন তাঁরা। স্ত্রী আর ছোট ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে কখনো রোদে পুড়ছেন, কখনো বৃষ্টিতে ভিজছেন। বিশাল এই পৃথিবীতে বড় নিঃস্ব, বড় অনাকাঙ্ক্ষিত তাঁরা! অথচ তাদের চারজনেরই ভারতের বৈধ আধার কার্ড রয়েছে।

দিনের বেলায় চারপাশে ভিড় করা উৎসুক মানুষের দিকে তাকিয়ে সময় কাটে তাদের। আর রাত নামলে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার ওপর স্থাপিত ফ্লাডলাইটের আলোয় সুদিনের জন্য অপেক্ষা! সীমান্তের দুই পাশে দুই দেশের সশস্ত্র সীমান্তরক্ষী বাহিনী। কোনো অপরাধ না করেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দাগি আসামি যেন তারাই!

আটক হওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে আধার কার্ড, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন তাই তাদের কাছে নেই কোনো পরিচয়পত্র, নেই স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোনও। খাবার নেই, নেই বিশুদ্ধ পানি। আছে কেবল অনিশ্চয়তা। তাদের দুর্দশা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা মাঝে মাঝে কিছু খাবার, পানি এগিয়ে দেন, যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘তাদের যদি ভারতীয় আধার কার্ড থাকে, তাহলে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা কেন করা হচ্ছে? তারা যদি ভারতের নাগরিক হয়, তাহলে ভারতকেই তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

একই এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি শামসুল, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান ভারতের নাগরিক। তাহলে তাদের সীমান্তে ফেলে রাখা মানবিক নয়। দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’

শামসুলের পরিবারসহ মোট ১০ জন এখন সীমান্তের শূন্যরেখাসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত