Ajker Patrika

সিম বিক্রির আড়ালে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আটক ৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
সিম বিক্রির আড়ালে অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আটক ৩
আটক তিন অভিযুক্ত। ছবি: আজকের পত্রিকা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদীঘি ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকায় সিম বিক্রির আড়ালে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও আঙুলের ছাপ নিয়ে গোপনে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রবি ও সার্কেলের তিন ব্র্যান্ড প্রমোটারকে আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আজ বুধবার বিকেলে পঞ্চগড়ের বলেয়াপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের আটক করে বন্দরপাড়ায় নিয়ে আসা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা আবু নাইয়ান নাহিদ ও রবিউল ইসলাম এবং পঞ্চগড়ের জালাসী এলাকার ওমর ফারুক বাবু।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত তিন দিন ধরে কামাতকাজলদীঘি ইউনিয়নের বন্দরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় রবি ও সার্কেলের সিম মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করছিলেন ওই তিনজন। সিম দেওয়ার সময় তাঁরা গ্রাহকদের মূল এনআইডি কার্ড নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি সংগ্রহ করেন। এভাবে পাঁচ শতাধিক মানুষের তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিম নেওয়ার পরপরই অনেক গ্রাহকের নগদ অ্যাকাউন্ট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। কারও কারও অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে ওই তিন ব্র্যান্ড প্রমোটারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা পঞ্চগড়ে নেই বলে দাবি করেন।

পরে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ সিম কেনার কথা বলে তাঁদের আবার এলাকায় আনার ফাঁদ পাতেন। একপর্যায়ে ব্র্যান্ড প্রমোটাররা নিজেদের অবস্থান পঞ্চগড়ের বলেয়াপাড়া এলাকায় বলে জানান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে গিয়ে তাঁদের আটক করে বন্দরপাড়ায় নিয়ে আসেন।

ভুক্তভোগী রাজিয়া খাতুন বলেন, ‘১০ টাকায় তারা সিম দিচ্ছিল। সেই সঙ্গে আমাদের ফিঙ্গারপ্রিন্টও নেয়। ওরা চলে যাওয়ার পরেই আমাদের নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। কোন সিম দিয়ে তারা নতুন অ্যাকাউন্ট করেছে, আমরা জানি না। অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ছিল, সেগুলো তুলে নিয়েছে তারা। সিম বিক্রির আড়ালে তারা গোপনে নগদ অ্যাকাউন্ট করে আমাদের বিপদে ফেলেছে।’

আরও এক ভুক্তভোগী শাহপরান বলেন, ‘ওরা রবি ও সার্কেলের গাড়িতে এসেছে। আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও চোখ-মুখের ছবি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলে, এখানে টাওয়ার হবে। পরে সবার বাড়ি থেকেই খবর আসে, নগদ-বিকাশ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। এই অ্যাকাউন্টের সব তথ্য তাদের কাছে। আমরা কিছুই জানি না। কোনো অঘটন ঘটলে এর দায় কে নেবে?’

রবি ও সার্কেলের ব্র্যান্ড প্রমোটার আবু নাইয়ান নাহিদ বলেন, ‘লোভে পড়ে আমরা এ কাজ করেছি। শাওন নামের একজন আমাদের দিয়ে এ কাজ করিয়েছে। আর অফিসে সিম খুলতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল, তাই আমরা গ্রামে গ্রামে সিম খুলতে এসেছি।’

কামাতকাজলদীঘি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল প্রধান বলেন, ‘এটি নতুন অনলাইন প্রতারণা। তারা আমার এলাকার সহজ-সরল মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। সিম বিক্রির আড়ালে নগদ অ্যাকাউন্ট করে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের বড় প্রতারণার পরিকল্পনা ছিল। এই চক্রের মূল হোতাদের ধরতে হবে। সেই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষেরা যেন বিপদে না পড়ে, সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত