Ajker Patrika

ভেজাল দুধের কারবারির হামলায় নিহত আবুল হাশেম: বিচার দাবিতে মানববন্ধন

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
ভেজাল দুধের কারবারির হামলায় নিহত আবুল হাশেম: বিচার দাবিতে মানববন্ধন
চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া বাজার এলাকায় এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার চাটমোহরে ভেজাল দুধের কারবারিদের হামলায় নিহত আবুল হাশেমের হত্যাকারীদের বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া বাজার এলাকায় এলাকাবাসীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে এলাকার শিশু, নারী ও পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত আবুল হাশেমের স্ত্রী জহুরা খাতুন, ছেলে সজীব হোসেন, মেয়ে তৈয়বা, সিদ্দিকুর রহমান এবং এলাকাবাসীর মধ্যে জাহাঙ্গীর সরকার, রাজু আহম্মেদ, রবিআল মোল্লা, সাইদুল প্রামানিক, সাইজুদ্দিন প্রামানিক, নাঈম খলিফা প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে চায়নি। পরে হাশেমের মৃত্যুর পর মামলা নিয়েছে। কিন্তু এখন রাতের বেলা পুলিশ মোমিনের বাড়িতে আসে আর যায়, কিন্তু আটক করছে না। প্রকাশ্যে সে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’

বক্তারা অবিলম্বে ভেজাল দুধের কারবারি আব্দুল মোমিনকে আটক এবং বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিলচলন ইউনিয়ন কৃষক দলের বহিষ্কার হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন পুলিশকে ম্যানেজ করে কেমিক্যাল দিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী ও এনএসআইয়ের যৌথ অভিযানে পরপর দুবার তাঁর কাছ থেকে ভেজাল দুধ তৈরির সরঞ্জামসহ ভেজাল দুধ জব্দ করা হয়।

প্রথমবার জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেলেও পরেরবার আব্দুল মোমিনের নামে মামলা হয়। ওই মামলায় মোমিনের বাবাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। তবে আব্দুল মোমিনকে আটক করেনি পুলিশ।

সম্প্রতি প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে মোমিন ও তাঁর সহযোগীদের হামলায় আবুল হাশেমসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর আবুল হাশেম মারা যান। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে শাহীন নামের একজনকে আটক করে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোমিন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান বলেন, ‘পুলিশ কাজ করছে না, এটা ভুল কথা। মোমিন ও তাঁর সহযোগীদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত