Ajker Patrika

ঈশ্বরদীতে ডিমের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় সড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের প্রতিবাদ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি 
ঈশ্বরদীতে ডিমের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় সড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের প্রতিবাদ
ঈশ্বরদী-নাটোর মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতিবাদ করছেন খামারিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার ঈশ্বরদীতে ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, পোলট্রিখাদ্য ও ওষুধের দাম কমানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে পোলট্রি খামারিরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়কে ডিম ভেঙে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ রোববার অপরাহ্নে উপজেলার মুলাডুলি বাজারে ঈশ্বরদী-নাটোর মহাসড়কের সামনে স্থানীয় পোলট্রি খামারিদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির সময় বিক্ষুব্ধ খামারিরা সড়কে অবস্থান নিয়ে ডিমের দাম নির্ধারণ ও পোলট্রিখাদ্যের দাম কমানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা কিছু সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খামারিদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, করপোরেট কোম্পানির পরিবর্তে প্রান্তিক খামারিদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, পোলট্রি খাদ্যের দাম কমানো, ভেটেরিনারি ওষুধের ওপর শুল্ক কমিয়ে মূল্য হ্রাস এবং করপোরেট কোম্পানির সিন্ডিকেট ভেঙে ক্ষুদ্র খামারিদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে খামারি মাসুদ গাজী বলেন, `২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক বস্তা পোলট্রি খাদ্যের দাম ছিল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। বর্তমানে সেই খাদ্যের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। পোলট্রি ওষুধের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। অথচ ডিমের দাম উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।'

বিপ্লব হোসেন বলেন, `বর্তমানে খামারে একটি ডিমের উৎপাদনে খরচ পড়ে ৯ টাকার ঊর্ধ্বে। সেই ডিম বিক্রির পর লাভ করতে হলে অন্তত ১০ থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করতে হয়। অথচ খামারিরা এখন প্রতি ডিম বিক্রি করছেন মাত্র ৭ টাকা ৮০ পয়সায়। এতে তাদের উৎপাদনে লোকসান হচ্ছে ডিম প্রতি সর্বোচ্চ ২ টাকা ৭০ পয়সা।”

ইমদাদুল হক বলেন, খাদ্য ও ওষুধের দাম না কমিয়ে বারবার ডিমের দাম কমানো হচ্ছে। এতে তাদের মতো ক্ষুদ্র খামারিরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় এনজিও বা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই খামার পরিচালনা করছেন। ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, খামারিদের দাবির বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নেবেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত