Ajker Patrika

কৃত্রিম সার সংকট: গুদামজাত করে বাইরে পাচার

মাসুদ পারভেজ রুবেল  ডিমলা (নীলফামারী) 
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২: ৩৫
ব্যবসায়ী রশিদুলের গোডাউনে গোপনে মজুত করা সার। ছবি: আজকের পত্রিকা
ব্যবসায়ী রশিদুলের গোডাউনে গোপনে মজুত করা সার। ছবি: আজকের পত্রিকা

রবিশস্য ও বোরো মৌসুম চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান জেলা নীলফামারীতে মাঠজুড়ে কৃষকের ব্যস্ততা। আলু, গম, ভুট্টা, শাকসবজি ও বোরো ক্ষেতে সেচ ও পরিচর্যায় সময় কাটছে কৃষকদের। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে চলছে আরেক লড়াই—সার সংগ্রহের। আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। অথচ সরকারি হিসাবে জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ডিলারদের কাছে গেলে ‘সার নেই’ বলা হয়। অথচ খুচরা বাজারে ঠিকই সার পাওয়া যাচ্ছে, তবে বাড়তি দামে। সার না কিনলে জমিতে ফসলের পরিচর্যা বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত দাম দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষকদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই সারের সংকট থাকে, তাহলে বাজারে সার আসছে কীভাবে? সংকটটা শুধু কৃষকদের জন্য, ব্যবসায়ীদের জন্য নয়।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেলায় সার সরবরাহের বড় একটি অংশ কার্যত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ডোমার উপজেলার গোমনাতি ও আমবাড়ি বাজার ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নন-ইউরিয়া সারের প্রতিটি বস্তায় অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গোমনাতি বাজারের মধু ট্রেডার্স, রশিদুল ইসলাম ও নুর আলমসহ ডোমার বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী নিয়মিতভাবে ট্রাক্টর, পিকআপ ও অটোভ্যানে করে হাজার হাজার বস্তা সার জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া গোমনাতি ও আমবাড়ি বাজারসংলগ্ন একাধিক গুদামে বিপুল পরিমাণ সার মজুদ থাকতে দেখা গেছে। এসব সার নিয়মিতভাবে বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। বরং সংকটের কথা বলে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

আমিনুল ও দুলালসহ কয়েকজন পরিবহনচালক জানান, তারা নিয়মিত গোমনাতি ও আমবাড়ি বাজারের মধু ট্রেডার্স, রশিদুল ইসলাম ও নুর আলমের গুদাম থেকে বিভিন্ন উপজেলার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি নন-ইউরিয়া সার সরবরাহ করেন।

খোগারহাট বাজারের ব্যবসায়ী হাচানুর বলেন, তিনি প্রতিদিন গোমনাতি বাজার থেকে প্রায় ২০০ বস্তা সার পাইকারি কেনেন। তাঁর মতো ডোমার, ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার আরও অনেক ব্যবসায়ী সেখান থেকে সার এনে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সার বিক্রেতা জানান, বরাদ্দের অর্ধেক সার উত্তোলনের আগেই হাতবদল হয়ে যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, মূল ডিলাররা কমিশনের ভিত্তিতে সার বিক্রির পুরো দায়িত্ব সাব-ডিলারদের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন, যা নিয়মবহির্ভূত। এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সারের একটি অংশ বিদেশি ব্র্যান্ডের বস্তায় ভরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদককে প্রতিবেদন প্রচার না করার জন্য ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন নুর আলমসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। এ নিয়ে কথোপকথনে মধু ট্রেডার্সের পরিচালক রাজু সারের অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, প্রতিদিন তিনি ২৫০ থেকে ৩০০ বস্তা সার বিক্রি করেন এবং এসব সার বিভিন্ন এলাকার ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

তবে নুর আলম দাবি করেন, মধু ট্রেডার্স ও রশিদুল ইসলাম প্রতিদিন প্রায় চার হাজার বস্তা সার বিক্রি করেন। অন্যদিকে রশিদুল ইসলাম বলেন, নুর আলম একাই প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার বস্তা সার বাজারজাত করছেন।

সার সংকটের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান ও বিএডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বনশ্রীর ছাত্রীকে খুন করেন তার বাবার হোটেলের কর্মচারী: র‍্যাব

বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিল নতুন জরিপ

ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যে সৃষ্ট ধোঁয়াশা পরিষ্কার করল বিসিবি

‘বাংলাদেশকে নিয়ে তিনটি আশঙ্কা, ভারতে খেলার পরিস্থিতি নেই’

সস্ত্রীক ঢাকায় পৌঁছালেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত