নেত্রকোনা প্রতিনিধি

আরতি বর্মন। বয়স পঞ্চাশের বেশি। চেহারায় বোঝা যায় জীবনযুদ্ধের ছাপ। স্পষ্ট করে কথা বলতে পারেন না। কোনো জমিজমা না থাকায় দুর সম্পর্কের চাচার বাড়ির এক কোণে দুই ছেলেকে নিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলেন ৩০ বছর আগে। এর মধ্যে স্বামী গত হয়েছে ১৫ বছর আগে। অভাবে অনটনেও দুই ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছেন। অভাবের কারণে নিজের জায়গা বা ঘর কিছুই করা হয়ে ওঠেনি। স্বপ্ন ছিল নিজের বাড়ি করার। নিজের ঘরে থেকে শেষ নিশ্বাস নেওয়ার প্রবল ইচ্ছে তার।
আরতি বর্মনের সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে। নিজে জায়গা কিনে ঘর করতে না পারলেও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে পাকা ঘর পেয়েছেন আরতি।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাহাম গ্রামে গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন আরতি বর্মন। সেখানে আরতির মতো আরও অনেকে ঘর পেয়েছেন। সবার জীবনের গল্পটা ঠিক আরতির মতোই।
আজ সোমবার উপজেলার বাহাম গুচ্ছগ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে পাওয়া ঘরের বারান্দায় বসে মাটির চুলোয় রান্না করছেন আরতি বর্মন। চোখে মুখে তাঁর আনন্দের ছাপ। দুঃসময়ের সঙ্গে স্বপ্নপূরণ আর সুখের দিনের কথাও জানালেন অকপটে। পাশের ঘরের বাসিন্দারাও আরতির কথায় সায় দিলেন।
আরতি বলেন, ‘উপজেলার সনুই গ্রামে ছিল স্বামীর বাড়ি। অভাবে সব বিক্রি করে ৩০ বছর দুই ছেলেকে নিয়ে অন্যর বাড়ির এক কোণে কাটিয়েছি। অন্যের বাড়িতে থাকার কষ্ট তারাই বুঝে যারা থাকে। যাদের নিজের বাড়ি নেই তারাই একমাত্র বুঝে নিজের বাড়ির মূল্য। কখনো ভাবিনি নিজের ঘর হবে। মৃত্যুর আগে নিজের ঘরে শেষ নিশ্বাস নিতে পারব। প্রধানমন্ত্রী আমার মতো অসহায়ের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করেছেন। তিনি ঘর উপহার না দিলে হয়তো অন্যর বাড়িতে থেকেই মরতে হতো। আর আমার কোনো চাওয়া নেই। নিজের ঘরে মন ভরে ঘুমাতে পারছি এটাই জীবনের বড় পাওয়া। আজ সবাইকে বলতে পারি আমার নিজের বাড়ি।’
তিনি আরও জানার, দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ঝুটন বর্মন অনার্সে পড়েন। ছোট ছেলে লিটন বর্মন এসএসসি পাস করেছেন। এক সময় মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালালেও এখন ছেলেরা প্রাইভেট পড়িয়ে ও দোকানে কাজ করে সংসার চালান।
আরতি বর্মনের পাশের ঘরে উঠেছেন শেফালি আক্তার। তার স্বামী আলী ওসমান পেশায় ইজিবাইক চালাক। তাঁদের রয়েছে চার সন্তান।
জানতে চাইলে শেফালি আক্তার বলেন, ‘স্বামীর বাড়ি উপজেলার চেংরাখালী গ্রামে ছিল। অভাবে সব বিক্রি করে দীর্ঘদিন অন্যর বাড়িতে থেকেছি। ইজিবাইক চালিয়ে স্বামীর যা আয় তা দিয়ে চার সন্তানসহ ছয়জনের পরিবার চলে কোনোরকম। জায়গা কিনে ঘর করা তো স্বপ্নে মতো। প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘর দিয়েছেন বলে আমার সন্তানেরা মন খুলে নিজের ঘরে ঘুরতে পারছে। আল্লাহ যেন তাঁর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) মঙ্গল করেন।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলায় ক-শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন ২২৭টি পরিবারকে দুই শতক জমিসহ ঘর দেওয়া হচ্ছে। তিন ধাপে এ পর্যন্ত ১৬১টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ ধাপে আগামী বুধবার আরও ৬৬টি পরিবারকে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই দিন এর উদ্বোধন করবেন। সেই সঙ্গে ওই দিন মোহনগঞ্জ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, ‘নিজের ঘর নির্মাণের মতো করে আন্তরিকতা দিয়ে এসব ঘরের নির্মাণকাজ তদারকি করেছি। প্রধানমন্ত্রীর মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে সব রকমের চেষ্টা করা হয়েছে।’

আরতি বর্মন। বয়স পঞ্চাশের বেশি। চেহারায় বোঝা যায় জীবনযুদ্ধের ছাপ। স্পষ্ট করে কথা বলতে পারেন না। কোনো জমিজমা না থাকায় দুর সম্পর্কের চাচার বাড়ির এক কোণে দুই ছেলেকে নিয়ে ঠাঁই নিয়েছিলেন ৩০ বছর আগে। এর মধ্যে স্বামী গত হয়েছে ১৫ বছর আগে। অভাবে অনটনেও দুই ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছেন। অভাবের কারণে নিজের জায়গা বা ঘর কিছুই করা হয়ে ওঠেনি। স্বপ্ন ছিল নিজের বাড়ি করার। নিজের ঘরে থেকে শেষ নিশ্বাস নেওয়ার প্রবল ইচ্ছে তার।
আরতি বর্মনের সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে। নিজে জায়গা কিনে ঘর করতে না পারলেও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে পাকা ঘর পেয়েছেন আরতি।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাহাম গ্রামে গড়ে ওঠা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন আরতি বর্মন। সেখানে আরতির মতো আরও অনেকে ঘর পেয়েছেন। সবার জীবনের গল্পটা ঠিক আরতির মতোই।
আজ সোমবার উপজেলার বাহাম গুচ্ছগ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে পাওয়া ঘরের বারান্দায় বসে মাটির চুলোয় রান্না করছেন আরতি বর্মন। চোখে মুখে তাঁর আনন্দের ছাপ। দুঃসময়ের সঙ্গে স্বপ্নপূরণ আর সুখের দিনের কথাও জানালেন অকপটে। পাশের ঘরের বাসিন্দারাও আরতির কথায় সায় দিলেন।
আরতি বলেন, ‘উপজেলার সনুই গ্রামে ছিল স্বামীর বাড়ি। অভাবে সব বিক্রি করে ৩০ বছর দুই ছেলেকে নিয়ে অন্যর বাড়ির এক কোণে কাটিয়েছি। অন্যের বাড়িতে থাকার কষ্ট তারাই বুঝে যারা থাকে। যাদের নিজের বাড়ি নেই তারাই একমাত্র বুঝে নিজের বাড়ির মূল্য। কখনো ভাবিনি নিজের ঘর হবে। মৃত্যুর আগে নিজের ঘরে শেষ নিশ্বাস নিতে পারব। প্রধানমন্ত্রী আমার মতো অসহায়ের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করেছেন। তিনি ঘর উপহার না দিলে হয়তো অন্যর বাড়িতে থেকেই মরতে হতো। আর আমার কোনো চাওয়া নেই। নিজের ঘরে মন ভরে ঘুমাতে পারছি এটাই জীবনের বড় পাওয়া। আজ সবাইকে বলতে পারি আমার নিজের বাড়ি।’
তিনি আরও জানার, দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ঝুটন বর্মন অনার্সে পড়েন। ছোট ছেলে লিটন বর্মন এসএসসি পাস করেছেন। এক সময় মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালালেও এখন ছেলেরা প্রাইভেট পড়িয়ে ও দোকানে কাজ করে সংসার চালান।
আরতি বর্মনের পাশের ঘরে উঠেছেন শেফালি আক্তার। তার স্বামী আলী ওসমান পেশায় ইজিবাইক চালাক। তাঁদের রয়েছে চার সন্তান।
জানতে চাইলে শেফালি আক্তার বলেন, ‘স্বামীর বাড়ি উপজেলার চেংরাখালী গ্রামে ছিল। অভাবে সব বিক্রি করে দীর্ঘদিন অন্যর বাড়িতে থেকেছি। ইজিবাইক চালিয়ে স্বামীর যা আয় তা দিয়ে চার সন্তানসহ ছয়জনের পরিবার চলে কোনোরকম। জায়গা কিনে ঘর করা তো স্বপ্নে মতো। প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘর দিয়েছেন বলে আমার সন্তানেরা মন খুলে নিজের ঘরে ঘুরতে পারছে। আল্লাহ যেন তাঁর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) মঙ্গল করেন।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলায় ক-শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহহীন ২২৭টি পরিবারকে দুই শতক জমিসহ ঘর দেওয়া হচ্ছে। তিন ধাপে এ পর্যন্ত ১৬১টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ ধাপে আগামী বুধবার আরও ৬৬টি পরিবারকে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই দিন এর উদ্বোধন করবেন। সেই সঙ্গে ওই দিন মোহনগঞ্জ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাব্বির আহমেদ আকুঞ্জি বলেন, ‘নিজের ঘর নির্মাণের মতো করে আন্তরিকতা দিয়ে এসব ঘরের নির্মাণকাজ তদারকি করেছি। প্রধানমন্ত্রীর মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে সব রকমের চেষ্টা করা হয়েছে।’

রোববার সন্ধ্যায় মেহেদী গোবরা থেকে মোটরসাইকেলযোগে শহরের বাসায় ফেরার পথে চিত্রা নদীর এসএম সুলতান সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়।
২৬ মিনিট আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকা-১২ আসনে (তেজগাঁও এলাকা) রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে ‘তিন সাইফুলের’ উপস্থিতি ভোটের মাঠে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। তাঁরা হলেন—দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল
৫ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় সর্বোচ্চ খরচের পরিকল্পনা করেছেন বিএনপির আলী আসগর লবী। আর জেলায় সবচেয়ে কম বাজেট একই দলের আরেক প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের। হলফনামায় ছয়টি আসনের প্রার্থীদের অধিকাংশই নিজস্ব আয়ের পাশাপাশি স্বজনদের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নিয়ে এই ব্যয় মেটানোর কথা জানিয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
পাশাপাশি দুটি জনগোষ্ঠীর বসবাস। দূরত্ব বলতে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার হবে। মাঝখানে বয়ে চলা ছোট একটি ছড়া, যা পৃথক করেছে চা-শ্রমিক ও খাসিয়া জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলকে। কাছাকাছি এলাকায় বসবাস হলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি ও ডবলছড়া বা সুনছড়া চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনমানে ব্যাপক ফারাক।
৬ ঘণ্টা আগে