Ajker Patrika

বেশি বিল আসায় কর্মীকে গালাগালের অভিযোগ, গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল পল্লী বিদ্যুৎ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
বেশি বিল আসায় কর্মীকে গালাগালের অভিযোগ, গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল পল্লী বিদ্যুৎ
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা স্বপন মিয়ার ঘরের মিটার। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মীকে গালাগাল ও কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের স্বপন মিয়ার বসতবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত সংযোগটি পুনরায় চালু করা হয়নি।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে প্রশ্ন করায় তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাঁরা দাবি করেন, পল্লী বিদ্যুতের কর্মীর সঙ্গে কোনো অশালীন আচরণ বা গালাগাল করা হয়নি। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের দাবি, বিল নিয়ে প্রশ্ন করায় নয়, বরং কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আলীপুর গ্রামের স্বপন মিয়ার বাড়িতে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে ৩ হাজার ১০০ টাকা আসে। পরিবারটি সেই বিল পরিশোধ করে। এরপর অক্টোবর মাসের বিল আসে ৮৭০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বিল পৌঁছে দিতে বাড়িতে যান পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডিং কাম ম্যাসেঞ্জার (এমআরসি) রাশেদ মিয়া। এ সময় বিলের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্বপন মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়।

বিষয়টি রাশেদ মিয়া মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন আদর্শনগর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ হামিদুর রহমানকে জানান। পরে তিনি বিষয়টি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ইমদাদুল হককে অবহিত করেন। এরপর ডিজিএমের নির্দেশে ওই দিন বিকেলে স্বপন মিয়ার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ভুক্তভোগী আসমা আক্তার বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বর মাসে তিন মাসের বিল একসঙ্গে ৩ হাজার ১০০ টাকা দিয়েছি। এখন অক্টোবর মাসেও প্রায় ৯০০ টাকা বিল এসেছে। সারা দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। একটি ফ্রিজ ও দুটি ফ্যান চলে। এতেই এত বিল আসে কেন, তা জানতে চেয়েছি। শুধু আমি নই, আশপাশের বাড়ির লোকজনও বেশি বিল আসার অভিযোগ করছেন। তখন বিদ্যুতের ওই লোকটি বলেন, বেশি কথা বললে আপনার মিটার খুলে নিয়ে যাব। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে করে দুজন লোক এসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতে ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে গেছে। গত দুই রাত অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে। বিদ্যুৎ থাকে না, অথচ বিল বেশি আসে। এসব কারণে গ্রাহকেরা তো দু-চার কথা বলতেই পারেন। এর জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ঠিক হয়নি। এখন অন্ধকারে কষ্টে দিনরাত পার করছি।’

অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ হামিদুর রহমান বলেন, প্রতিবার বিল দিতে গেলে ওই গ্রাহক তাঁদের কর্মী রাশেদ মিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এমনকি ডিজিএমের হাত কেটে ফেলার হুমকিও দেন। কোনো অভিযোগ বা মিটারের সমস্যা থাকলে জানালে তাঁরা সমাধানের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ওই গ্রাহক কোনো সমস্যা না জানিয়ে শুধু গালাগাল করেন। বিষয়টি ডিজিএমকে জানানোর পর তাঁর নির্দেশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

ডিজিএম ইমদাদুল হক বলেন, ওই গ্রাহকের মিটার ও রিডিংয়ে কোনো সমস্যা নেই। তারপরও বিল দিতে গেলে প্রতিবারই কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং তাঁকেও হাত কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছেন। এ কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবেন। ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না—এমন নিশ্চয়তা পেলে সংযোগ পুনরায় চালু করে দেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত