Ajker Patrika

বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ, ৩ দিন পর মুক্তিপণে সন্তানকে ফিরে পেল পরিবার

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ, ৩ দিন পর মুক্তিপণে সন্তানকে ফিরে পেল পরিবার
উদ্ধার হওয়া ছেলে ও তার বাবা। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার এক মাদ্রাসাছাত্র। তিন দিন আটকে রাখার পর মুক্তিপণের টাকা আদায় করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয় অপহরণকারী চক্র।

ভুক্তভোগী আরিফ মিয়া (১০) দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের সিংহা চারিগাঁওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হেলিমের ছেলে। সে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাইতুন নূর দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার মাদ্রাসা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয় আরিফ। তার সঙ্গে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও আরিফ নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রাউজান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন শনিবার দুপুরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে আরিফের বাবার কাছে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, আরিফ তাদের হেফাজতে রয়েছে। ছেলেকে ফিরে পেতে প্রথমে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারটি ঋণ করে অপহরণকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে ২৫ হাজার টাকা পাঠায়। বাকি ৫ হাজার টাকা না দেওয়ায় অপহরণকারীরা আপত্তিও জানায়।

মুক্তি পাওয়ার পর সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে আরিফ জানায়, মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর দুই ব্যক্তি তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে একটি বাড়িতে রাখা হয়। সেখানে খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হলেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় কী বলতে হবে, তা তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়। মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পর অপহরণকারীরা তাকে একটি বাসে তুলে দেয়।

আরিফের বাবা আব্দুল হেলিম বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। অনেক অনুরোধ করেছি। তারপরও টাকা ছাড়া তারা আমার ছেলেকে ছাড়েনি। ছেলেকে বাসে তুলে দিয়েছে বললেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, ‘পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। বড় ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। তাদের কাছে ২৫ হাজার টাকা মানে বিশাল অঙ্কের অর্থ।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর দ্রুত ও গুরুত্বসহকারে পদক্ষেপ নেওয়া হলে অপহরণকারী চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারত। তারা অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও অসহায় পরিবার একই ধরনের ঘটনার শিকার হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত