Ajker Patrika

গুরুদাসপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা
গুরুদাসপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
রাকিবুর রহমান রাজা। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুরে হাটের নতুন ইজারাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে রাকিবুর রহমান রাজা নামের এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত রাকিবুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। অন্যদিকে মামলার বাদী ও হাটের নতুন ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপু গুরুদাসপুর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাবেক সহসভাপতি।

জানা গেছে, রাকিবুর ও তপু দুজনেই নাজিরপুর ইউনিয়নের তুলাধনা গ্রামের বাসিন্দা। রাকিবুর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মসজিদের নামে তুলাধুনা হাট ইজারা নিয়ে টোল আদায় করতেন। এ বছর তুলাধুনা হাটের ডাকে অংশ নেন তপু। গত বৃহস্পতিবার গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসনের কক্ষে হাটের দরপত্র বাক্স খোলা হয়। বেশি দরপত্র দেওয়ার কারণে তপু হাটের ইজারা পেয়ে যান। এতে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন রাকিবুর। একপর্যায়ে ইজারাদার তপুর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন রাকিবুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নাটোর জেলা যুবদলের নজরে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার রাতে জেলা যুবদলের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাকিবুরকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে গতকাল রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে রাকিবুর জানান, এক বছর আগের পাওনা টাকা চেয়েছিলেন তিনি। প্রতিবছর কম টাকায় হাট ডেকে থাকেন তিনি। অথচ তাঁর পাওনা টাকা না দিয়ে বেশি টাকায় হাট ইজারা নিয়েছেন তপু। বঞ্চিত হয়ে প্রকাশ্যেই বকেয়া টাকা চেয়েছিলেন তিনি।

তবে মামলার বাদী তপু জানান, তাঁর কাছে রাকিবুর কোনো টাকা পান না। মূলত হাটের ইজারা হাতছাড়া হয়ে পড়ায় তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন রাকিবুর। নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কারণেই মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান তপু।

গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিকুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাৎক্ষণিক আদালতের মাধ্যমে রাকিবুরকে নাটোর জেলহাজতে পাঠানো হয়। তবে অজ্ঞাতনামা আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত