Ajker Patrika

নরসিংদীর রায়পুরায় ৬৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট, জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান

হারুনূর রশিদ, রায়পুরা (নরসিংদী)
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫৬
নরসিংদীর রায়পুরায় ৬৭ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট, জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান
করিমগঞ্জ ১৮৪ নম্বর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। কোথাও দেয়ালে বড় ফাটল, কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোথাও রড বেরিয়ে আছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পুরোনো ভবন দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনশেড ঘরের চাল ফুটো হয়ে ভেঙে পড়ছে। বৃষ্টির সময় কোনো কোনো শ্রেণিকক্ষে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি মির্জাপুর ইউনিয়নের ১৫১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির দুটি ভবনের একটি দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং রড বেরিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ার চিহ্নও রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে শেওলা জমেছে।

বিদ্যালয়টিতে ২৪৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন তিনজন। অপর ভবনে তিনটি কক্ষ থাকলেও একটি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পাঠদানের জন্য থাকে মাত্র দুটি কক্ষ। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনেও ক্লাস নিতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী হুমায়রা বিনতে জাহিন ও তানিশা প্রীতিসহ অনেকেই জানায়, মাঝেমধ্যে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এ কারণে ভয়কে সঙ্গী করেই তাদের ক্লাস করতে হয়। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ও ভালো বাথরুমের ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ তাদের।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বলেন, ‘আমাদের স্কুলে দুটি ভবন রয়েছে। একটি ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। নতুন ভবনটিতে তিনটি কক্ষের মধ্যে একটি অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সরকারের কাছে নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন করছি।’

করিমগঞ্জ ১৮৪ নম্বর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। ছবি: আজকের পত্রিকা
করিমগঞ্জ ১৮৪ নম্বর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা। ছবি: আজকের পত্রিকা

একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার করিমগঞ্জ ১৮৪ নম্বর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মমিন মিয়া বলেন, বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের ক্লাস করতে হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট মমিন মিয়া বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি। শিক্ষার পরিবেশ ও শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে করিমগঞ্জ ১৮৪ নম্বর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুত একটি নতুন বহুতল ভবন বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।’

শুধু মির্জাপুর ও করিমগঞ্জ নয়, উপজেলার খলিলাবাদ ১৬৬ নম্বর, মাঝেরচর, বড়কান্দা, মনিপুরা, আশ্রাফপুর, মেথিকান্দা, মির্জানগর, ইসলামপুর, রংপুর, ধুকুন্দিরচর, জয়নগর, মিয়াজানপুর, বাঁশগাড়ি, চান্দেরকান্দি, হাইড়মারা, সাউদপাড়া ও গাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে ভবন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের চিত্র পাওয়া গেছে।

অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তাই সবার আগে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত নিরাপদ স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্কুল ফিডিং, ব্যাগ কিংবা ড্রেস দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত নিরাপত্তার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে ক্লাসের ব্যবস্থা এবং দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।

রায়পুরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘মির্জাপুর স্কুলসহ ৬৭টি বিদ্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা প্রয়োজন। পিইডিপি-৫ থেকে সর্বশেষ বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। যেসব বিদ্যালয় জরাজীর্ণ, সেগুলোতে জরুরি ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত