Ajker Patrika

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমাইয়ার মৃত্যুর দুই বছর, বিচারের আশায় পরিবার

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ২৩: ০৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমাইয়ার মৃত্যুর দুই বছর, বিচারের আশায় পরিবার
স্বজনের কোলে শহীদ সুমাইয়ার শিশুসন্তান সুয়াইবা। ছবি: আজকের পত্রিকা

২০২৪ সালের ২০ জুলাইয়ের গণআন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান গার্মেন্টস কর্মী সুমাইয়া (২০)। তাঁর মৃত্যুর দুইবছর পূর্ণ হয়েছে আজ সোমবার। এই হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিচার কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে তা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন সুমাইয়ার স্বজনরা।

সুমাইয়ার মৃত্যুর সময় মাত্র মাত্র আড়াই মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু সন্তান সুয়াইবাকে রেখে যান। শিশুটির বয়স এখন দুইবছর আড়াই মাস চলছে। সুমাইয়ার স্বজনেরা জানান, মাতৃহীন শিশুটির বাবা থেকেও নেই। মা-খালা, মামারাই তাকে বড় করছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুমাইয়া পেশায় গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন। স্বামী মো. জাহিদ ও আড়াই মাসের সন্তান সুয়াইবাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকার ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন তিনি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতা যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করছিল তখন নিজ বাড়ি থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন সুমাইয়া। মায়ের বাড়িতে থাকার সময় ছাত্র-জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিল সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা। সেদিন ২০ জুলাই বিকেলে যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হচ্ছিল তখন (নাসিক) ১ নং ওয়ার্ডের পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় মায়ের বাড়ি ছয়তলার ফ্ল্যাটে মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আন্দোলনের দৃশ্য দেখছিলেন সুমাইয়া। বারান্দায় দাঁড়ানোর কয়েক মিনিটের মাথায় আচমকা আকাশে উড়া হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া একটি গুলি ওই ফ্ল্যাটের বারান্দার গ্রীল দিয়ে ঢুকে সুমাইয়ার মাথায় লাগে। রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তখন তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সড়কেই মৃত্যু হয় তাঁর।

সুমাইয়া হত্যার বিচারের অগ্রগতি চান স্থানীয় বাসিন্দারাও। আক্তার হোসেন নামক একজন বলেন, দুইবছর হয়ে গেছে কিন্তু বিচারের আশানুরূপ অগ্রগতি চোখে পড়েনি। আমাদের প্রত্যেকের চাওয়া দ্রুত সময়ে মেয়েটার পরিবার বিচারটা পাক। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বছর চলে গেলেও বিচার মিলছে না। বিনা অপরাধে মেয়েটা মারা গেছে। তাঁর হত্যা বিচার সরকার দ্রত শেষ করুক, আমরা এটাই চাই।

সুমাইয়ার মা আসমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের মৃত্যুর দুই বছর পার হওয়া সত্বেও আমি এখনো বিচার পাইনি। কোনো অপরাধ না করেও আমার নিরপরাধ মেয়েটা মারা গেছে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কেও আমরা কিছুই জানি না। মামলার তদন্তকারী কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমাদের কথা হয়নি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে আমি আমার সন্তান হত্যার বিচারটা চাই। সরকার যেনো দ্রুত সময়ে বিচার কার্যক্রম শেষ করে দেন। পাশাপাশি সরকারের কাছে আমার এতিম নাতনিটারও একটা ব্যবস্থা আশা করছি।  

সুমাইয়ার বড় বোন জান্নাত বলেন, আমার বোনের মৃত্যুর পর তাঁর মেয়েকে আমরা লালনপালন করছি। দুর্ভাগা এই শিশুটির বাবা জীবিত থাকা সত্বেও মেয়ের খোঁজখবর নেন না। মেয়েটি আমাকেই মা বলে ডাকে। বড় বোনের চোখের সামনেই ছোট বোন চলে গেছে-এটা আমাকে কতটা কষ্ট দেয় তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া যেনো আমার বোন হত্যার সঠিক বিচার আমরা পাই। একইসাথে কোনো নিরপরাধ মানুষও যেন শাস্তি না পায়-সেটাও আমাদের চাওয়া।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত