Ajker Patrika

স্কুল ভবনে নয়, ত্রিপলের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ

 নওগাঁ প্রতিনিধি
স্কুল ভবনে নয়, ত্রিপলের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ
ত্রিপলের নীচে ক্লাস করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

তিন দশকেরও বেশি সময় আগে নির্মিত হয়েছিল স্কুলভবনটি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এর অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। কখনো চুন, সুরকি কখনো বা পলেস্তারা খসে পড়ছিল। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে প্রশাসন। কিন্তু পাঠদান তো বন্ধ থাকতে পারে না। তাই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টানিয়ে।

তীব্র গরমে খোলা মাঠে বসে পড়ালেখা করতে গিয়ে কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি হলে পানিতে ভিজে যায় বইখাতা, বেঞ্চ। শিক্ষকরাও গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিরূপ পরিস্থিতিতে পাঠদান চালিয়ে নিচ্ছেন। এ অবস্থায় ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর আবেদন, দ্রুত তাদের ভবনটি পুনঃনির্মাণ বা নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। চার কক্ষবিশিষ্ট বর্তমান ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৪ সালে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক পাঁচজন এবং কর্মচারী রয়েছেন তিনজন।

দীর্ঘদিন ধরেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় প্রায়ই ছাদের চুন-সুরকি ধসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ত। সর্বশেষ গত ২৩ জুন ক্লাস চলাকালে একটি শ্রেণিকক্ষের বিমের নিচের অংশের পলেস্তারা ও কংক্রিট ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। এরপরই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির অনেক স্থানে পলেস্তারা খসে গেছে। দেয়ালের অংশ ধসে গিয়ে রড বেরিয়ে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটলও দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে কিছুটা দূরে বাঁশের খুঁটির ওপর ত্রিপল টানিয়ে পাঠদান চলছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন শিক্ষকরা।

স্কুল শিক্ষার্থী রবিন বলে, ‘ভবনের ভেতর ঝুঁকি থাকায় শিক্ষকরা ত্রিপল টানিয়ে বাইরে ক্লাস নেয়। এতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। প্রচণ্ড রোদ-গরমে গা-মাথা ঘেমে যায় আবার বৃষ্টি হলে বই-খাতা ভিজে যায়। আমরা চাই দ্রুত আমাদের নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক।’

অভিভাবক খলিলুর রহমান বলেন, ‘কখনো রোদ, কখনো বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছেলে-মেয়েদের ত্রিপলের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে তারা যেমন কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত একটি নতুন ভবনের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে শিশুদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা যায়।’

ত্রিপলের নীচে ক্লাস করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
ত্রিপলের নীচে ক্লাস করছে শিশু শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃত কুমার সরকার বলেন, ‘ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিছুদিন আগে ক্লাস চলাকালে একটি কক্ষের বিমের নিচের অংশ ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। এরপর কয়েক দিন বারান্দা ও খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিদ্যালয় মাঠে ত্রিপল টানিয়ে পাঠদান চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশ্বাস দিয়েছেন, স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত টিনের কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করে দেবেন শিগগির।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উন্নয়ন শাখায় আবেদন পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আপাতত টিন দিয়ে অস্থায়ী কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত