Ajker Patrika

নওগাঁর রাণীনগর: খরচের চেয়ে দাম কম, মন খারাপ ধানচাষির

• জ্বালানি তেল, সার কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ।

• আমদানি চালের কারণে ধানের কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ।

মো.সাহাজুল ইসলাম, রাণীনগর (নওগাঁ)
আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭: ৪৩
নওগাঁর রাণীনগর: খরচের চেয়ে দাম কম, মন খারাপ ধানচাষির
ফাইল ছবি

নওগাঁর রাণীনগরে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি নেই। জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে ধান চাষে খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। অথচ বাজারে ধানের দাম কম থাকায় মৌসুমের শুরুতে লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, অধিকাংশ চালকলমালিকের গুদামে আমদানি করা (এলসি) চালের মজুত থাকায় নতুন ধান কেনার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মিলাররা। ফলে বাজারে ধানের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও আপাতত কম। বরং আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাণীনগর উপজেলায় ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে জিরাশাইল, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯২, কাটারিভোগসহ বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে। ইতিমধ্যে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকেরা।

যদিও কৃষি বিভাগের দাবি, এবার ফলন ভালো হয়েছে; তবে মাঠের কৃষকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁদের ভাষ্য, অনিয়মিত আবহাওয়া, রোগবালাই ও অতিরিক্ত খরচের কারণে ফলন আশানুরূপ হয়নি। উপরন্তু বাজারে দাম কম থাকায় প্রতি বিঘায় ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আবাদপুকুর এলাকার মরুপাড়া গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দীন হেলু মণ্ডল জানান, তিনি নিজস্ব ও বর্গা মিলিয়ে ৪৪ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় জমি প্রস্তুত, রোপণ, সার, সেচ, কাটা, মাড়াই ও বর্গার অংশসহ ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০ বিঘার ধান কেটে গতকাল আবাদপুকুর হাটে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। এতে প্রতি বিঘায় ৩-৪ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানান তিনি।

কালীগ্রাম বড়িয়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ‘এবার ১৭ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছি। নানা কারণে ফলন কমেছে। ইতিমধ্যে দুই বিঘা জমির ধান কেটে ২০-২২ মণ করে ফলন পেয়েছি, যা প্রত্যাশার চেয়ে কম।’

কসবাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘১৬ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছি। গতকাল থেকে ধান কাটা শুরু করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি প্রায় ৩-৪ মণ ধান কম হতে পারে।’

আবাদপুকুর বাজারের ধান-চাল আড়তদার লেবু হোসেন বলেন, গতকাল হাটে প্রায় ৪৬৭ মণ ধান কেনাবেচা হয়েছে। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অধিকাংশ মিলারের গুদামে আমদানি করা চাল মজুত থাকায় তাঁরা নতুন ধান কিনতে আগ্রহী নন। তাই বাজারে দাম বাড়ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হবে এবং ১৫-২০ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের অসামঞ্জস্যে কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠলেও স্বস্তি ফিরছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত