মহিউদ্দিন রানা, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ

‘সারা বছরে দুই-চাইর দিনও গরু গুস্ত কিইন্ন্যা খাওনের সাঙ্গেস্তা (সামর্থ্য) অয়না। কোরবানি ঈদে এর-হের বাড়িততে যে গুস্ত দেয়, বউ-পুলাপান লইয়া আপিত্তি (তৃপ্তি) মিডাইয়া খাইতাম পারি। খালি কি গুস্ত অইলেই অইবো? গুস্ত রানলে মসলাপাতি লাগে না? বাজারে আইছিলাম মসলাপাতি কিনতাম, দাম হুইন্ন্যা মাথা চক্কর মারছে।’
আজ শুক্রবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার সাপ্তাহিক হাটের দিন। হাটবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ঈদের জন্য মসলাপাতি কিনতে আসেন সত্তরোর্ধ্ব মো. দুলাল মিয়া। তিনিই আজকের পত্রিকাকে কথাগুলো বলছিলেন। দুলালের বাড়ি পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামে।
গরমে ঘেমে হাটের মানুষগুলোর হাঁসফাঁস অবস্থা। এক মুদি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁধের গামছা টেনে শরীরের ঘাম মুছছিলেন এক ব্যক্তি। একটু কাছে গিয়ে কথা বলতে জানা গেল, তাঁর নাম আবুল বাশার মিয়া। পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। তিনি বলেন, ‘আইছিলাম ঈদের লাইগ্যা দুইলা বাজার করতাম, কিন্তু জিনিসপাতির যে দাম, কিবা কিতা করবাম, বুঝতাছিনা’।
আক্ষেপের স্বরে বাশার আরও বললেন, ‘ব্যাক (সব) কিছুর দাম বাড়ে, খালি বাড়েনা আমরার মতো গরিব মাইনসের মুজুরি। দুই বছর আগেও কাম কইরা ৪০০ টেহা পাইতাম, অহনও হেইডাই পাই। বাজারে জিনিসপাতির যে দাম, সারা বছর এমনিতেই টাইন্ন্যা-টুইন্ন্যা (টেনেটুনে) চলি, তার মধ্যে ঈদের বাজার-সদাইডা মাথাত বাড়ি পড়ছে।’
এ দিন ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন মুদি দোকানসহ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা অস্থায়ী মসলা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয় আজকের পত্রিকার।
তারা জানালেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে আকাশ ছোঁয়া দাম বেড়েছে সব ধরনের মসলার। ক্রেতারা বলছেন-ঈদ আসায় ব্যবসায়ীরা মনগড়া দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন-চাহিদার তুলনায় আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাস দু-একের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচি এবং দারুচিনির। প্রকারভেদে কেজি প্রতি এলাচির দাম ছিল ১ হাজার হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার, যা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। কেজিপ্রতি দারুচিনি ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, দাম বেড়ে হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা।
শুধু তা-ই নয়, মাসখানেকের ব্যবধানে কেজি প্রতি ১০০ থেকে শুরু হয়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে লবঙ্গ, ধনে, তেজপাতা, শুকনা হলুদ-মরিচেও। এ ছাড়াও সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ বাজারের একাধিক মুদি ব্যবসায়ী জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মসলাপাতির দাম অনেক বেড়েছে। কারণ হিসেবে বলেন-আমদানি করা এসব মসলা কয়েক হাত বদলে তাঁদের কাছে আসে। ওই ধাপগুলো পার হতে হতেই দাম বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার থাকে না।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্নবিত্তসহ সব পরিবারেই মসলার চাহিদা বেশি থাকে। সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে মনগড়া দাম বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে, সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তা ছাড়া কোনো মুদি দোকানে দ্রব্যমূল্যের তালিকা না থাকলে, ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘সারা বছরে দুই-চাইর দিনও গরু গুস্ত কিইন্ন্যা খাওনের সাঙ্গেস্তা (সামর্থ্য) অয়না। কোরবানি ঈদে এর-হের বাড়িততে যে গুস্ত দেয়, বউ-পুলাপান লইয়া আপিত্তি (তৃপ্তি) মিডাইয়া খাইতাম পারি। খালি কি গুস্ত অইলেই অইবো? গুস্ত রানলে মসলাপাতি লাগে না? বাজারে আইছিলাম মসলাপাতি কিনতাম, দাম হুইন্ন্যা মাথা চক্কর মারছে।’
আজ শুক্রবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার সাপ্তাহিক হাটের দিন। হাটবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ঈদের জন্য মসলাপাতি কিনতে আসেন সত্তরোর্ধ্ব মো. দুলাল মিয়া। তিনিই আজকের পত্রিকাকে কথাগুলো বলছিলেন। দুলালের বাড়ি পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামে।
গরমে ঘেমে হাটের মানুষগুলোর হাঁসফাঁস অবস্থা। এক মুদি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁধের গামছা টেনে শরীরের ঘাম মুছছিলেন এক ব্যক্তি। একটু কাছে গিয়ে কথা বলতে জানা গেল, তাঁর নাম আবুল বাশার মিয়া। পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। তিনি বলেন, ‘আইছিলাম ঈদের লাইগ্যা দুইলা বাজার করতাম, কিন্তু জিনিসপাতির যে দাম, কিবা কিতা করবাম, বুঝতাছিনা’।
আক্ষেপের স্বরে বাশার আরও বললেন, ‘ব্যাক (সব) কিছুর দাম বাড়ে, খালি বাড়েনা আমরার মতো গরিব মাইনসের মুজুরি। দুই বছর আগেও কাম কইরা ৪০০ টেহা পাইতাম, অহনও হেইডাই পাই। বাজারে জিনিসপাতির যে দাম, সারা বছর এমনিতেই টাইন্ন্যা-টুইন্ন্যা (টেনেটুনে) চলি, তার মধ্যে ঈদের বাজার-সদাইডা মাথাত বাড়ি পড়ছে।’
এ দিন ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন মুদি দোকানসহ ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা অস্থায়ী মসলা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয় আজকের পত্রিকার।
তারা জানালেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রকারভেদে আকাশ ছোঁয়া দাম বেড়েছে সব ধরনের মসলার। ক্রেতারা বলছেন-ঈদ আসায় ব্যবসায়ীরা মনগড়া দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বিক্রেতারা বলছেন-চাহিদার তুলনায় আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাস দু-একের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচি এবং দারুচিনির। প্রকারভেদে কেজি প্রতি এলাচির দাম ছিল ১ হাজার হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার, যা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। কেজিপ্রতি দারুচিনি ছিল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, দাম বেড়ে হয়েছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা।
শুধু তা-ই নয়, মাসখানেকের ব্যবধানে কেজি প্রতি ১০০ থেকে শুরু হয়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে লবঙ্গ, ধনে, তেজপাতা, শুকনা হলুদ-মরিচেও। এ ছাড়াও সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ বাজারের একাধিক মুদি ব্যবসায়ী জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মসলাপাতির দাম অনেক বেড়েছে। কারণ হিসেবে বলেন-আমদানি করা এসব মসলা কয়েক হাত বদলে তাঁদের কাছে আসে। ওই ধাপগুলো পার হতে হতেই দাম বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার থাকে না।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্নবিত্তসহ সব পরিবারেই মসলার চাহিদা বেশি থাকে। সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে মনগড়া দাম বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে, সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তা ছাড়া কোনো মুদি দোকানে দ্রব্যমূল্যের তালিকা না থাকলে, ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যশোরে গত এক বছরে খুন হয়েছেন অন্তত ৬২ জন। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বিদেশি পিস্তল। সীমান্ত দিয়ে যে হারে অস্ত্র ঢুকছে, সেই তুলনায় উদ্ধার তৎপরতা কম। এমন বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
রবিশস্য ও বোরো মৌসুম চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান জেলা নীলফামারীতে মাঠজুড়ে কৃষকের ব্যস্ততা। আলু, গম, ভুট্টা, শাকসবজি ও বোরো ক্ষেতে সেচ ও পরিচর্যায় সময় কাটছে কৃষকদের। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে চলছে আরেক লড়াই—সার সংগ্রহের। আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক।
৪ ঘণ্টা আগে
বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লালার দীঘি দখলবাজির কারণে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। দীঘিটির দক্ষিণ পাড়ের ৫০ শতাংশ জায়গা পাইপের মাধ্যমে ভরাট করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল নগরের রুপাতলী হাউজিং স্টেট কর্তৃপক্ষ। এ জন্য দীঘির বিশাল অংশ নিয়ে তারা পাইলিংও দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) প্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষাভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ ব্যবস্থায় ওই দুই পদের প্রার্থীদের লিখিত বা বাছাই এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
৫ ঘণ্টা আগে