Ajker Patrika

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত হাসপাতালের দুরবস্থা

  • হাসপাতালটি পাঁচবার জাতীয় পুরস্কার পায়
  • ভবনের যত্রতত্র পড়ে থাকছে মেডিকেল বর্জ্য, আবর্জনা
  • টয়লেটে ঢুকতেই দুর্গন্ধে বমির উপক্রম হয়
খোন্দকার মাহাবুবুল হক, ঈশ্বরদী (পাবনা) 
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ময়লা বিছানা।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ময়লা বিছানা।

ওয়ার্ডের মেঝেতে ব্যবহৃত টিস্যু, স্যালাইনের প্যাকেট, ব্যান্ডেজ, তুলা, যত্রতত্র আবর্জনা, অপরিচ্ছন্ন বিছানার চাদর, দেয়ালে থুতু কাশির দাগ, জরাজীর্ণ জানালা-দরজা, মশা-মাছির উপদ্রব, শৌচাগার থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এমন চিত্র পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ৫০ শয্যা হাসপাতালের। অথচ ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটি জরুরি প্রসূতিসেবা (মা ও শিশু) এবং স্বাস্থ্যসেবায় পাঁচবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিল। এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগের অন্ত নেই।

হাসপাতাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নেয় ২০০-২৫০ রোগী। অন্তর্বিভাগে ৪০-৫০ রোগী ভর্তি হয়ে থাকে। এ অবস্থায় রোগী ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে লোকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দেড় হাজার।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী অন্য জেলার একাধিক উপজেলার থেকে রোগীরাও জরুরি চিকিৎসায় ঈশ্বরদী হাসপাতালে ছুটে আসে।

এ হাসপাতালে ১৮টি শৌচাগার (টয়লেট) রয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বিভাগে নারী, পুরুষ, গাইনিসহ তিন ওয়ার্ডে ১০টি, জরুরি বিভাগে পাঁচটি এবং বহির্বিভাগে তিনটি টয়লেট। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের তদারকি ও সংস্কারের অভাবে টয়লেটগুলো গন্ধ উৎপাদনের স্থানে পরিণত হয়েছে। দিনে দুবার পরিষ্কার করার বিধান থাকলেও অনেক সময় তা একবারও করা হয় না।

গত মঙ্গল ও বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের ব্যবহারের সব টয়লেটই দুর্গন্ধযুক্ত ও স্যাঁতসেঁতে। তিনতলার পুরুষ ওয়ার্ডে তিনটি টয়লেট ও একটি গোসলখানার মেঝেতে ময়লা পানি জমে ছিল। টয়লেটের প্রধান দরজার সিটকিনি ভেঙে যাওয়ায় নাইলনের দড়ি লাগিয়ে রাখা হয়েছে। টয়লেটে ঢুকতেই দুর্গন্ধে বমির উপক্রম হয়। পা ভিজে যায় জমে থাকা পানিতে। টয়লেটের ট্যাপসহ যাবতীয় উপকরণ নষ্ট।

মো. আজিম নামের এক রোগী বলেন, টয়লেটের বিশ্রী অবস্থা, ভেতরে গেলে দুর্গন্ধে অস্থির লাগে, নোংরা পানি জমে থাকে। গোসল করার মতো বালতিও নেই।

সামছুল হক নামের আরেক রোগী বলেন, বাথরুম এতই নোংরা যে ভেতরে যেতে ইচ্ছে করে না।

রোগীর ওয়ার্ডের পশ্চিম দিকে টয়লেটের পাশের বিছানায় পড়ে আছে ব্যবহৃত স্যালাইনের পরিত্যক্ত প্যাকেট। বিছানার দুটি চাদর ভীষণ নোংরা। হাসপাতালের দোতলায় নারী ওয়ার্ডের একই অবস্থা। টয়লেটে পানির ব্যবস্থা থাকলেও ভেতরে খুব দুর্গন্ধ। কয়েক রোগীকে নাক চেপে ভেতরে যেতে দেখা যায়। ওয়ার্ডের পাঁচটি বিছানার চাদরই নোংরা। এ ছাড়া কেবিনের তিনটি টয়লেটের অবস্থাও বেহাল। তিনটি টয়লেটেই ভালোমতো ফ্ল্যাশ হয় না। কমোডে ময়লা জমে থাকে।

কেবিনের একজন রোগী জানান, টয়লেটের অবস্থা এতই শোচনীয় যে ওপর থেকে বালতি কিংবা মগ দিয়ে পানি ঢেলে ময়লা পরিষ্কারের পর টয়লেট ব্যবহার করতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেবিনে চিকিৎসাধীন এক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত নোংরা অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এটা হাসপাতাল না ভাগাড়।

নারী ওয়ার্ডের রোগী চম্পা খাতুন বলেন, হাসপাতালে রোগ সারাতে এসে নোংরা দুর্গন্ধময় পরিবেশে মনে হয় আমরা আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ব। বিষয়গুলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

হাসপাতালের ক্লিনার শম্ভু দাশ বলেন, ‘আমি একা মানুষ, প্রতিদিন বহুদূর থেকে হাসপাতালে ডিউটিতে আসি। তবুও চেষ্টা করছি হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার।’

পুরস্কার পাওয়া হাসপাতালের এ হাল কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আবাসিক অফিসার ডাক্তার কাবেরী শাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি ভালো সেবা দিতে। কিছুদিন আগেও তিনটি কেবিনসহ বাথরুমগুলো সংস্কার করা হয়েছে। তারপরও টয়লেটগুলোর এমন অবস্থা কেন বুঝতে পারছি না।’

ডাক্তার কাবেরী শাহ আরও বলেন, কিছুদিন আগে ক্লিনার সমস্যা ছিল। ইতিমধ্যে একজন নারী ক্লিনার যুক্ত হয়েছেন। এতে সমস্যা কিছুটা দূর হবে আশা করছি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোগী ও তাদের স্বজনদের সচেতন হওয়া দরকার। কারণ তাদের অনেকেই ওয়ার্ডের ভেতরে ময়লা আবর্জনা, কাশি, থুতু ফেলেন।’ তবে তিনি হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা শিগগির কর্তৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত