Ajker Patrika

নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারির পরও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারির পরও জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারির পরও বিরোধপূর্ণ জায়গায় নির্মাণকাজ ও দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার সকালে সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী উপজেলার চর কামরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. আরিফ উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে নান্দাইল থানার চর কামরভাঙ্গা মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ৪০৭-এর ৩১১২ দাগে থাকা ২৯ শতাংশ জমি নিয়ে একই এলাকার শহিদ সিকদার, সাইদুল ইসলাম সিকদারের বিরোধ চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধপূর্ণ জায়গাতে ভবন নির্মাণের উদ্দেশে দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিলে আরিফ উদ্দিনকে ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর একই দিন নান্দাইল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ গিয়ে উভয় পক্ষকে বিষয়টি আপসের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেয়। তবে পরদিন আবারও ওই জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন প্রতিপক্ষের লোকজন।

পরে গত ৩০ আগস্ট বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আরিফ উদ্দিন। তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আরিফ উদ্দিন সিকদার বলেন, ২৯ শতাংশ জমির মধ্যে আমার ৭ শতাংশ জায়গা স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরদিন আবারও দখলের চেষ্টা করা হয়। ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞার পরও আজ ওই জমিতে নির্মাণকাজ শুরুর চেষ্টা করলে পুলিশ তা বন্ধ করে দেয়।

আরিফ উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও জমিতে দখলের চেষ্টা অব্যাহত থাকায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আরিফের ভাই আমিনুল শিকদার বলেন, ‘তাঁরা তিনবার ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন নিয়ে এসে জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। পুলিশ আসলে বন্ধ থাকে, চলে গেলে আবার কাজ শুরু করে দেয়।’

নির্মাণকাজের ঠিকাদার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘১৪৪ ধারা জারির বিষয়টা জানা ছিল না। শহীদ শিকদার ও সাইদুল শিকদার কাজ করতে বলেছে তাই এসেছি। এখন পুলিশ বাধা দিয়েছে তাই কাজ বন্ধ রেখেছি।’

এ ব্যাপারে জানতে গেলে শহীদ শিকদার ও তাঁর ভাই সাইদুল শিকদারকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, বাড়িতে কেউ নাই। তাঁরা বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে গেছেন।

জানতে চাইলে নান্দাইল মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পিন্টু চন্দ্র দে জানান, আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের কোনো সুযোগ নেই। তার পরেও নিষেধাজ্ঞার জায়গায় কাজ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত