Ajker Patrika

চলন্ত ট্রেনে শিশুর জন্ম

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
চলন্ত ট্রেনে শিশুর জন্ম
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের কোলে নবজাতক। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহে চলন্ত ট্রেনে শারমীন আক্তার (২৪) নামের এক ভাসমান নারী সন্তান জন্ম দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে সন্তান ভূমিষ্ঠের ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে কল আসে—ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী আছেন। তিনি প্রসব ব্যথায় ভুগছেন। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

একই সঙ্গে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিস ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাজির হয়। ট্রেন ময়মনসিংহ স্টেশনে প্রবেশের কিছুক্ষণ আগে সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হয় এবং ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড়ায়। পরে অপর দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সে তুলে ওই নবজাতক ও মাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সব শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নবজাতক ও মা ভালো আছে।’

স্টেশনের একটি সূত্র জানায়, ওই নারী কমলাপুর স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। তাঁর সঙ্গে চার বছর বয়সী এক সন্তান ছিল। ট্রেন গফরগাঁও স্টেশন ছেড়ে এলে ওই নারীর তীব্র প্রসব ব্যথা ওঠে। পরে ওই ট্রেনে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও একই হলের ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য সোলায়মান হোসাইন রবি ওই নারীকে সার্বিক সহায়তা দিয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে আসেন।

ঢাবি শিক্ষার্থী সোলায়মান হোসাইন রবি বলেন, ‘গতকাল রাতে ঢাকা-মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেসের ‘‘ট’’ বগিতে তীব্র প্রসব বেদনায় একজন প্রসূতি বোন কাতরাতে থাকেন। ওই সময় তাঁর পাশে কেউ না থাকায় বগি থেকে মহিলাদের ডেকে আনি এবং ডেলিভারি সম্পন্ন করার চেষ্টা করি। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার তীব্র বেদনা শেষে ট্রেনটি ময়মনসিংহ স্টেশনে প্রবেশের আগেই ফুটফুটে ছেলেসন্তান জন্ম দেন ওই বোন। ওই সময় পুরো স্টেশনে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে দুই নারীর সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে ভোর ৬টার দিকে বাচ্চাসহ তাঁর স্বামীকে নিয়ে চলে যান।’

নারীর স্বামীর বরাতে সোলায়মান হোসাইন আরও বলেন, ওই নারী কমলাপুর স্টেশনে ভিক্ষা করতেন এবং সেখানেই রাত কাটাতেন। আনুমানিক ৭ মাস আগে নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তাঁকে ছেড়ে যান স্বামী সাগর। এর পর থেকে তাঁর স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর কোনো যোগাযোগ ছিল না। ওই নারীর স্বামী সাগর ট্রেনে হকারি করেন।

ঢাবির ছাত্রদল নেতা সোলায়মান জানান, কাকতালীয় হলেও সত্য যে, ঘটনার সময় একই ট্রেনে ছিলেন ওই নারীর স্বামী সাগর। সাগর তাঁর চার বছরের মেয়েকে দেখতে পেয়ে জানতে চান, এখানে কীভাবে এল। মেয়েটি তার বাবাকে বিস্তারিত বলে। পরে নারীর স্বামী সাগর তাদের সঙ্গেই ছিলেন। সোলায়মান হোসেন বলেন, ওই নারী ও তাঁর স্বামী সাগরের বাড়ি কোথায়, স্পষ্ট করে কিছুই বলেনি। তবে এতটুকু বলেছে যে, তিনি জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মামাশ্বশুরের বাসায় নিয়ে যাবেন এবং তাঁদের বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। তাঁদের কোনো মোবাইল নম্বর নেই। যে কারণে মোবাইল নম্বর রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ওই নারীর মমেক হাসপাতালের ভর্তির স্লিপে ঠিকানা লেখা হয়েছে—তাঁর বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে স্টেশনে পৌঁছে যাই। তবে ওই নারী ট্রেনেই বাচ্চা জন্ম দেন। পরে দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালে পৌঁছে দিই এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে আমরা চলে আসি। শুনেছি, বাচ্চা ও মা দুজনই ভালো আছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

ইরান ও ইউক্রেনের পর আরও এক যুদ্ধের মেঘ জমছে

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধে হাত ছিল ইসরায়েলের: গোপন নথি প্রকাশ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত