
ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এশিয়ায় আরেকটি সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে। নতুন এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্ত। সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ বিমান হামলা ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক এখন খোলামেলা সংঘর্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।
আফগান তালেবান সরকার অভিযোগ করেছে, কাবুলে একটি মাদকাসক্তি পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ৪০৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের অভিযান ছিল জঙ্গি অবকাঠামো লক্ষ্য করে, বেসামরিক স্থাপনা নয়। কে সঠিক—তা এখনো নিশ্চিত না হলেও হতাহতের দাবি এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার গতি পরিস্থিতিকে দ্রুত অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ছায়া সংঘাত থেকে সরাসরি লড়াই
দীর্ঘদিন ধরে চলা নীরব উত্তেজনা এখন প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। একসময় ‘অস্বস্তিকর মিত্র’ হিসেবে বিবেচিত পাকিস্তান ও তালেবান প্রশাসন এখন সরাসরি সামরিক হামলা চালাচ্ছে একে অপরের বিরুদ্ধে। গত এক মাসে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে বিমান হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং গোলাবর্ষণ প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
পাকিস্তান দাবি করছে, তাদের এই পদক্ষেপের মূল কারণ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ক্রমবর্ধমান হামলা। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালায় এবং তালেবান সরকার তাদের নীরব সমর্থন দেয়। তবে কাবুল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের অজুহাতে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে।
কাবুল হামলার প্রভাব
কাবুলে কথিত হামলাটি সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আফগান কর্মকর্তারা এটিকে চলমান সংঘাতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তুলেছেন। পাকিস্তান লক্ষ্যবস্তু ও হতাহতের সংখ্যা—দুই দাবিই অস্বীকার করেছে। তারপরও আফগান জনমনে পাকিস্তানের প্রতি ক্ষোভ তীব্র হয়েছে।
আফগান বাহিনী সীমান্তে ড্রোন হামলা ও অভিযানের মাত্রা বাড়িয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে; বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে গেছে।
শক্তির ভারসাম্যহীনতা
দুই দেশের সামরিক শক্তির মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। পাকিস্তানের প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সেনা ও আধুনিক বিমানবাহিনী রয়েছে। পাশাপাশি এটি একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। অন্যদিকে তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগান বাহিনী তুলনামূলকভাবে ছোট, কম সজ্জিত এবং আধুনিক অস্ত্রে সীমিত।
তবুও আফগানিস্তান কেন সংঘাত বাড়ানোর ঝুঁকি নিচ্ছে—এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সামরিক শক্তির চেয়ে বেশি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল। তালেবান নেতৃত্ব নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বার্তা দিতে এই অবস্থান নিচ্ছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
এই উত্তেজনার সময়কালও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ইরান-সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছে, আর ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি করেছে। এর মধ্যে নতুন আরেকটি সংঘাত বৈশ্বিক কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
চীন, রাশিয়া এবং তুরস্ক সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সতর্ক করেছেন, শক্তি প্রয়োগ কেবল অস্থিতিশীলতা বাড়াবে। তবে এখনো কার্যকর আলোচনা শুরু হয়নি।
অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের ঝুঁকি
পাকিস্তান ইতিমধ্যে পরিস্থিতিকে ‘সরাসরি যুদ্ধের কাছাকাছি’ বলে বর্ণনা করেছে। দুই পক্ষই সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখছে এবং কেউই পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ফলে সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সীমিত সীমান্ত সংঘর্ষ দ্রুত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—বিশেষ করে যখন এর পেছনে রাজনৈতিক চাপ ও জঙ্গি হুমকি কাজ করে। আন্তর্জাতিক মনোযোগ তুলনামূলক কম থাকায় ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও বেশি।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে যে নতুন সংঘাত তৈরি হচ্ছে, তা বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার আরেকটি বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ থাকলেও, কূটনৈতিক উদ্যোগ দ্রুত না বাড়লে বিশ্ব শিগগির আরেকটি বড় যুদ্ধের মুখোমুখি হতে পারে।

একসময় প্রযুক্তি খাতের চাকরিতে টিকে থাকতে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের বলা হতো, ‘কোডিং শিখুন।’ কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে সেই সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন বিশ্বের বড় বড় এআই গবেষণাগার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দার্শনিকদের খুঁজছে।
৪৪ মিনিট আগে
সপ্তাহ দুয়েক আগে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন স্পেসএক্স তাদের শেয়ারের একটি অংশ নাসডাকে তালিকাভুক্ত করেছে। কোম্পানিটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হচ্ছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে। এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার ঘটনা।
৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের জয় ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতে নেমেছে বেইজিং। গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যখন বোমা হামলা শুরু হয়েছিল, তখন ভেনেজুয়েলার মতো আরেকটি মিত্র সরকারের পতনের আশঙ্কায় ছিল চীন...
১ দিন আগে
দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে সম্ভবত স্বাভাবিকতার পথে ফিরছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক। গতকাল সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভালের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২ দিন আগে