Ajker Patrika

বন্যার পর তীব্র গোখাদ্য সংকট, বিপাকে মৌলভীবাজারের ২৮ ইউনিয়নের বাসিন্দারা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
বন্যার পর তীব্র গোখাদ্য সংকট, বিপাকে মৌলভীবাজারের ২৮ ইউনিয়নের বাসিন্দারা
বন্যায় ঘাস ও গোখাদ্য পচে যাওয়ায় না খেয়ে আছে গরুগুলো। ছবি: আজকের পত্রিকা

চলমান বন্যায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার প্রায় ২৮ ইউনিয়নে বসতঘর ও চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও জেলায় তীব্র গোখাদ্য সংকট রয়ে গেছে। খাদ্যের অভাবে অনেক গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, জেলার নদনদীর পানি কমায় সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বিস্তীর্ণ এলাকা কয়েকদিন পানিতে তলিয়ে থাকায় গোখাদ্য পচে নষ্ট হয়েছে।

এদিকে মাঠে পশু চরানোর জায়গা না থাকায় অনেকেই উঁচু স্থানে গবাদিপশু বেঁধে রেখেছেন। কোথাও কোথাও সড়কের ওপরও গবাদিপশু বেঁধে রাখা হয়েছে। কেউ কেউ ধানের কুড়া খাওয়াচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গত ৪ দিন ধরে গবাদিপশুগুলো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেক পশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় পচা গন্ধ ছড়াচ্ছে। পানি কমে গেলেও ঘাস ও গোখাদ্য পচে যাওয়ায় পশুরা খাবার খাচ্ছে না। খড় ছাড়া অন্য খাবারও দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের জরিফ মিয়া বলেন,`বন্যায় সারা এলাকা ডুবে গিয়েছিল। ৪ দিন ধরে গরুগুলো না খেয়ে আছে। গরুর জন্য কোনো ধরনের খাবার পাচ্ছি না। আমাদের ৮টি গরু আছে। এর মধ্যে দুটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।'

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলমান বন্যায় পশুর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক তথ্য পেতে আরও এক-দু’দিন সময় লাগবে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, `মৌলভীবাজার বন্যা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট তো আছেই। কিন্তু যাদের ঘরে গবাদিপশু আছে, তাদের সংকট আরো বেশি। জেলায় বন্যায় কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করা হচ্ছে।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত